আমেরিকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপের এয়ারবাসের কাছ থেকেও কেনার পথে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। তবে এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দর-কষাকষি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও জোরদার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
জরুরি ভিত্তিতে বহরে নতুন উড়োজাহাজ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে উড়োজাহাজ সংকটে রয়েছে। এ সংকট কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, উচ্চপর্যায়ের দর-কষাকষি কমিটির সুপারিশ মূল্যায়ন করেই উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেকোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্গো বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সহায়তা চায় ঢাকা
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চঝুঁকির কার্গো ও ডাকসংক্রান্ত তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশকে উচ্চঝুঁকির কার্গো ও ডাকের তালিকাভুক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় স্থানে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত নিরীক্ষায় সন্তোষজনক মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এসব অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চঝুঁকির কার্গো ও ডাকের তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করছে সরকার।
বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগে আগ্রহ
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের বিকাশমান আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।
বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচলকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগেও যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়েও আলোচনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাও বৈঠকে আলোচনায় আসে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এ ছাড়া বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার।



