ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে (৩০) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
গোসলের সময় ভিডিও ধারণের অভিযোগ
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় জনি নামে এক আসামি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে বাইরে থাকা আল আমিন তাকে আবার বাথরুমে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় জনি ভিডিও ধারণ করেন এবং দুজন তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিও দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিও অন্যত্র সংরক্ষণ করে ভুক্তভোগী নারীকে পরে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
গত ২ আগস্ট মামলার আরেক আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইলে থাকা ভিডিও দেখিয়ে ওই নারীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
২০ আগস্ট মামলা
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন।
মামলার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে র্যাব। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১-এর গাজীপুরের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, মামলার আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



