দেশব্যাপী কৃষক কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ের উদ্বোধন হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে ছাপানো কৃষক কার্ড।
ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।
একই দিনে ৫০ জেলায় কর্মসূচি
১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের ৫০ জেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী আয়োজন হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের নিবন্ধন হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই ও ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ব্লকের কৃষকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ২৫০০ টাকা
কৃষক কার্ডধারী ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কৃষক যাতে সরকারি সুবিধা পান, সেটিই কৃষক কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের পাশাপাশি মাঝারি ও বড় কৃষকদেরও পর্যায়ক্রমে কার্ডের আওতায় আনা হবে।
কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পৌঁছানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা আরও সংগঠিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পৌঁছে দিতে এই কার্ড ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কার্ডের লক্ষ্য
সরকার আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কর্মসূচির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮১ কোটি টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ২৭ লাখ। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট কৃষকদেরও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
বৈশাখে শুরু হয়েছিল প্রাক্-পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
কৃষক কার্ড কর্মসূচি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—প্রাক্-পরীক্ষামূলক, পরীক্ষামূলক এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণ।
গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে প্রাক্-পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। ওই পর্যায়ে ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ কৃষক কার্ড পান। তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
‘দেশে সারের সংকট নেই’
সারের সরবরাহ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি, কৃষককে হয়রানি বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের বার্ষিক চাহিদা বিবেচনায় পরিকল্পিতভাবে সার আমদানি করা হয়। মৌসুমভেদে চাহিদা পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুমোদিত পরিবেশকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি বা স্থানে সার মজুতের কিছু অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। এসব অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয় একাধিক দল গঠন করেছে। দলগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সারসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনের সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম ইয়াসিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম আবদুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম এবং স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



