আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ৯ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

হেলমান্দ ও কুনারে হামলা; পাকিস্তানের দাবি ২২ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত, জাতিসংঘ বলছে বেসামরিক মৃত্যু অন্তত ১০

আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির তালেবান সরকার। হামলায় আরও ১১ জন আহত এবং তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে কাবুল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানও আফগানিস্তানের দুটি স্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। তবে ইসলামাবাদের দাবি, বেসামরিক নাগরিক নয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করেই ‘পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট’ হামলা চালানো হয়েছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ ও পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় মোট নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

হেলমান্দে চারজন নিহত

হেলমান্দের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাফার গ্রামে বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

কুনারেও আবাসিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। দুই প্রদেশ মিলিয়ে তিনটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

২২ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহতের দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর শিবির ও আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, প্রাথমিক হিসাবে হামলায় ২২ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তাদের আস্তানায় থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসলামাবাদ বলছে, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে হামলার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।

আবারও উত্তেজনা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সীমান্ত সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

আফগান তালেবান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চলতি বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের পর মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles