সাইবার পুলিশ ইউনিটের উদ্বোধন আজ, নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল

সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা আসছে সমন্বিত কাঠামোয়; মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলায় থাকবে শাখা

দেশে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। আজ (২ অক্টোবর) বিকালে পুলিশ সদরদপ্তরে নতুন এই ইউনিটের উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ইউনিটটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. ইকবাল হোসেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জাম দিয়েই শুরু

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে পুলিশের বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে ইউনিটটির কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়।

তবে ইউনিটটির পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, নতুন পদের সংখ্যা, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামের বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক কাঠামোয় তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক

বর্তমানে পুলিশের একাধিক ইউনিট সাইবার অপরাধ তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের কাজ করছে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিটসহ বিভিন্ন শাখায় এ ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে এসব সক্ষমতাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলায় থাকবে শাখা

গত ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হবে। মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও এর শাখা থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, থানা ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম দেওয়া হবে। পুলিশ সদরদপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে থাকবে বড় পরিসরের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা।

জটিল সাইবার অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে করা হবে। যেসব ঘটনার তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব, সেগুলোর তদন্ত ও বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট পর্যায়েই করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনের পর বিস্তারিত জানাবে পুলিশ

আজ বিকালে পুলিশ সদরদপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিট উদ্বোধনের পর সংবাদ সম্মেলনে এর কার্যক্রম ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।

উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকায় কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানদের পুলিশ সদরদপ্তরের মূল ভবনের চতুর্থ তলার ‘হল অব ইন্টিগ্রিটি’ সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্বে ইকবাল হোসেন

পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, নতুন ইউনিটটির প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি গত ২৩ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এরপর তাকে পুলিশ সদরদপ্তরের অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন শাখায় অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নতুন ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হলে সাইবার অপরাধের তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক সক্ষমতা একটি সমন্বিত পুলিশি কাঠামোর অধীনে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles