জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি ইউনিয়ন কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে মোনাজাত করেন। এ সময় তারা দলীয় পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় কোনো কর্মসূচি না থাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি প্রায় দেড় বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। শনিবারের এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাত শেষে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর বগারচর ইউনিয়নজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ একে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কার্যালয়ে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি বা জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। ওই ঘটনার পর থেকেই কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে প্রকাশ্যে পতাকা উত্তোলন ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
