সিলেটের বিশ্বনাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার ৪৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২৫ জনকে। এ ঘটনায় সংগঠনটির উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্বনাথ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল সিং বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রুকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত উপজেলা কমিটির আরও কয়েকজন নেতা ও কর্মীর নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।
মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বিশ্বনাথ পৌরসভার উত্তর মশুলা (জানাইয়া) গ্রামের প্রয়াত ময়না মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর নয়ন মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৫ আগস্ট রাতে মশাল মিছিলের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রামপাশা ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সামনে হঠাৎ একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। লামাকাজী–বিশ্বনাথ সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার ব্যানারে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মিছিলের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ১৭ আগস্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সরকারি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি, উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়া এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আর্থিক বা অন্য ধরনের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার আসামি বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা এবং একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করে জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।