কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি, স্মারকলিপি এবং কয়েক দিনের আলোচনা-সমঝোতার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজনটি শেষ হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কনসার্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে। ব্যান্ডটির কণ্ঠশিল্পী হাসান ইথার মঞ্চে ওঠার পর শিক্ষার্থীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসে তাঁকে স্বাগত জানান।
আগে আপত্তি জানিয়েছিল কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ
নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের বিরোধিতা করে গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির দাবি ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন যেন স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, জননিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
পরদিন সংসদ সদস্য, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় একটি সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ঠিক হয়। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘অশ্লীলতা হবে না’—এমন শর্তও দেওয়া হয়েছিল।
কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠান
সোমবার দুপুরের পর থেকেই কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলও গঠন করা হয়েছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এর আগে দুপুরে নবীনবরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক থেকে দূরে থাকা এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।
কনসার্ট হওয়ায় আপত্তি রয়ে গেছে
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নির্বিঘ্নে কনসার্ট উপভোগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও বলা হয়, কোনো বাধা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।
তবে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া বার্তাকে বলেন, তাঁদের কাছে কনসার্ট না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তারা মনে করেন। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান হওয়ায় সংগঠনটির আপত্তি বহাল রয়েছে।
এর আগে ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে মাদরাসাশিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নতুন কনসার্টের বিরোধিতার ক্ষেত্রে সেই ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছিল।



