ঢাকার রাশিয়ান হাউসে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সাব)। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা, গান ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
‘বন্ধুত্বের জীবন্ত সেতু’ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় পড়াশোনা করা বাংলাদেশিরা ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে ‘বন্ধুত্বের এক অনন্য ও জীবন্ত সেতু’।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী) জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা বাংলাদেশিরা প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, বিজ্ঞান, জনপ্রশাসন ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে উচ্চশিক্ষার জন্য দূরবর্তী সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, দেশে ফিরে তাদের পেশাগত সাফল্য সোভিয়েত ও রুশ উচ্চশিক্ষার মানের সাক্ষ্য বহন করে। এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে তিনি দুই দেশের ‘বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতির দূত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুশকিনের কবিতা থেকে ‘মস্কো নাইটস’
সাংস্কৃতিক আয়োজনে রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের বিখ্যাত কবিতা ‘আই লাভড ইউ’ আবৃত্তি করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম ও মণিপুরি নৃত্য এবং বাংলা গান।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিল্পী ও সাব সদস্য তিমির নন্দীর কণ্ঠে জনপ্রিয় রুশ গান ‘মস্কো নাইটস’।
মূল সাংস্কৃতিক পর্বের শেষে আমন্ত্রিত শিল্পী ও অতিথিরা সম্মিলিতভাবে ‘আমরা করব জয়’ পরিবেশন করেন।
পরে নৈশভোজ ও দলীয় আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



