ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি কক্ষ থেকে দম্পতি ও সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, নাজমা খাতুনের সঙ্গে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়ের পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন আলমগীর কবির (৪৫), তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক। গত ৫ সেপ্টেম্বর জামগড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর, হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে পিবিআই।
নাজমা ও হৃদয়ের পুরোনো সম্পর্কের তথ্য পেয়েছে পিবিআই
বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, প্রায় তিন বছর ধরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় থাকার সময় নাজমার সঙ্গে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মনিরুজ্জামান হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল।
পরে আলমগীর কবিরের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর ওই সম্পর্কের বিষয়টি আলমগীর জানতে পারেন বলে দাবি পিবিআইয়ের। এরপর প্রায় দুই মাস আগে নরসিংহপুর ছেড়ে জামগড়ায় হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, বাসা পরিবর্তনের পরও নাজমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন হৃদয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যও চলছিল।
ঘটনার আগে তিনজন একসঙ্গে চা খান
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর আলমগীর ও নাজমার সঙ্গে জামগড়ার বাসায় যান হৃদয়। বাসায় ওঠার আগে কাছের একটি চায়ের দোকানে তিনজন একসঙ্গে চা পান করেন।
এরপর হৃদয়কে নিয়ে বাসায় যান তারা। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তিনজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে নাজমা ঝাড়ু দিয়ে হৃদয়কে পেটাতে থাকেন। তখন হৃদয় নাজমার তলপেটে লাথি মারলে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয় এবং মৃত অবস্থায় শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়।
স্ত্রীর অবস্থা দেখে আলমগীর হৃদয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে আলমগীরকে হত্যার পর হৃদয় পালিয়ে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।
তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার
গত ৫ সেপ্টেম্বর বাসার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে আলমগীর, নাজমা ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর নাজমার বোন শাপলা বেগম আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই।
নরসিংহপুর থেকে হৃদয় গ্রেপ্তার
পিবিআই জানিয়েছে, বিভিন্ন আলামত ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
৪৪ বছর বয়সী হৃদয় ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার দাম দরদী গ্রামের জব্বার মাতব্বরের ছেলে।
গ্রেপ্তারের পর তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পিবিআই। পরবর্তী সময়ে আদালতেও আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।



