বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, বাড়ছে লোডশেডিং

গরমে বেড়েছে ব্যবহার; জ্বালানি ঘাটতি ও কেন্দ্র বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে না উৎপাদন

দেশে গরমের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সরকারি হিসাবে লোডশেডিংয়ের যে পরিমাণ দেখানো হচ্ছে, প্রকৃত ঘাটতি কোনো কোনো সময়ে তার চেয়েও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গরমে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা

সেপ্টেম্বরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।

দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতেও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার বেশি থাকায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উঠেছে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় বিতরণ সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ঢাকার বাইরের এলাকায় ভোগান্তি বেশি

রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও ঢাকার বাইরের অনেক এলাকায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।

বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কথাও জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি বেড়ে গেলে বিতরণ সংস্থাগুলো জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।

উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তবে সব কেন্দ্র একসঙ্গে চালানো যাচ্ছে না।

গ্যাসের ঘাটতি, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহ বড় সমস্যা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের সবচেয়ে বড় জ্বালানি উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস। কিন্তু দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী না থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি শিল্প, সার কারখানা ও আবাসিক খাতেও গ্যাস সরবরাহ করে। ফলে চাহিদা বেড়ে গেলে বিভিন্ন খাতের মধ্যে গ্যাস বণ্টনের চাপ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে সচল কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করছে সরকার। বন্ধ বা আংশিক চালু কেন্দ্রগুলোও দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

গরম অব্যাহত থাকলে বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদাও বজায় থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন বাড়ানো না গেলে লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles