বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো অর্থনৈতিক কূটনীতি। দেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণের সুযোগে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোকতার আলীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হচ্ছে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা এবং কৌশলগত ভারসাম্যের ভিত্তিতে। কোনো একক শক্তি বা জোটের ওপর অতিনির্ভরশীল না হয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর
ড. খলিলুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
এর আগে সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে তৈরি পোশাক, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সুযোগ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।
ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তৃত হচ্ছে
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কও প্রচলিত বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্প্রতিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি পুরোপুরি স্বাক্ষরিত হলে ২৭ সদস্যের এই জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় নতুন গুরুত্ব
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ, জ্বালানি, খাদ্যনিরাপত্তা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স ও নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আফ্রিকাকে বাংলাদেশের জন্য উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জোট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণ রক্ষা এবং এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বা অংশীদারত্বকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।
আরও ১০ দেশে দূতাবাসের পরিকল্পনা
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের আরেক প্রশ্নের লিখিত জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৬৩টি দেশে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি দূতাবাস, উপহাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন ও স্থায়ী মিশন রয়েছে।
কম্বোডিয়া, লাওস, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, তানজানিয়া, ঘানা, জাম্বিয়া, উগান্ডা ও চিলিতে নতুন দূতাবাস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে নতুন মিশন খোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।



