ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দেড় হাজার

বছরের মৃত্যু বেড়ে ১৩৯; সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই প্রাণ গেছে ৪২ জনের

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৪৩০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ছয় মৃত্যুর দুটি খুলনায়

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগের। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় সর্বোচ্চ ৩২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন, চট্টগ্রামে ২০২, বরিশালে ১৭৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫১ এবং রাজশাহী বিভাগে ১২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৫৪ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের ১০ দিনেই ৪২ মৃত্যু

চলতি মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর আরও তিনজন এবং ১০ সেপ্টেম্বর ছয়জনের মৃত্যু হওয়ায় মাসের প্রথম ১০ দিনেই মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে।

একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনে ভর্তি হয়েছিলেন ৯ হাজার ৬২৯ জন। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৬৩ এবং ১০ সেপ্টেম্বর আরও ১ হাজার ৪৯২ জন ভর্তি হয়েছেন।

আগস্টে ভর্তি হয়েছিলেন ২০ হাজারের বেশি

জুন থেকে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জুনে হাসপাতালে ভর্তি হন ২ হাজার ৯০৭ জন। জুলাইয়ে তা বেড়ে হয় ৯ হাজার ২০৬ জন।

আগস্টে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই সেই সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে।

ঢাকায় মৃত্যু ৭১ জনের

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৩৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মৃত্যুও রয়েছে।

খুলনা বিভাগে ২৫ জন, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ৯ এবং রাজশাহীতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নিয়ে সতর্কতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মশার ঘনত্ব, প্রজননস্থল ও রোগীর তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি পরিচালনার কথাও বলেছেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীও শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত একযোগে মশা নিয়ন্ত্রণ, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সরকার তিন মাসের দেশব্যাপী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক এ কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠন এতে যুক্ত থাকবে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles