জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তাঁকে সমর্থনকারী সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আস্থা পুনরুদ্ধারে জোর
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা এখন এমন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা তাঁর দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতায় আগে দেখা যায়নি। তবে নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।
তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপ বাড়ানো এবং জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর করে তোলার অঙ্গীকার করেন।
তাঁর সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য হলো—আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা।
জাতিসংঘ সনদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার অঙ্গীকার
খলিলুর রহমান বলেন, তাঁর সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সনদ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া দায়িত্বের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বস্ত থাকা হবে।
তিনি মনে করেন, সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব না হলেও অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে।
জাতিসংঘ সংস্কারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ব্যবসা, উদ্ভাবন খাত ও শিক্ষাবিদদের আরও কার্যকরভাবে সংস্থাটির কাজে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের কণ্ঠ তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি
রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের ‘জনগণ’ ধারণার মধ্যে সব মানুষই অন্তর্ভুক্ত।
রোহিঙ্গা সংকটে নিজের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন।
রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘে তাদের কণ্ঠ তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন কর্মসূচি
আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান তৈরির ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান।
তিনি জানান, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি সাধারণ কর্মসূচি তৈরির চেষ্টা করা হবে।
সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান, উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্বনেতাদের নতুন করে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাবেন তিনি।
মহাসচিব নির্বাচন নিয়েও কথা
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, এ নিয়োগের ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করবে এবং সাধারণ পরিষদ তাঁকে নিয়োগ দেবে।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি সনদের বিধান অনুযায়ী সদস্যরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে জানান।
চার দশক পর সভাপতির পদে বাংলাদেশ
ড. খলিলুর রহমান ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১ ভোট।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি ছিলেন। চার দশক পর আবারও বাংলাদেশ এই দায়িত্ব পেল।



