গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন, নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা

সমুদ্রের ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র; ভোলায় সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা

দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভাসমান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, স্থল ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং ভোলার গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

১৫০ কূপ খনন, বিস্তৃত এলাকায় সিসমিক জরিপ

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক সিসমিক জরিপ এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গভীর ও অগভীর সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গত ২৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী নভেম্বর।

স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুতুবজোম ও মাতারবাড়ীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে।

শিল্পখাতকে গ্যাস সংকট থেকে রক্ষায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে পুনঃগ্যাসে রূপান্তরিত এলএনজি ২০২৮ সালে সরবরাহ শুরু হতে পারে। মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আরেকটি টার্মিনালের চিন্তা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে।

পায়রা বা মোংলা বন্দর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত উপকূলীয় এলাকায় এটি নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভোলায় সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনাও সংসদে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস দেশের মূল গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে।

এ কারণে ওই অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ চলছে।

ভোলার গ্যাসের সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সেখানে একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তরল করে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাব্যতা যাচাই

অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং বিসিক শিল্পনগরীর কারখানাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাব্যতাও যাচাই করছে সরকার।

এ ক্ষেত্রে গ্যাস তরল করে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles