এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে স্কচটেপ লাগানো মরদেহ উদ্ধার

প্রাথমিকভাবে নিহতের নাম মো. ইসমাইল; অন্য কোথাও হত্যার পর গাড়ি থেকে মরদেহ ফেলে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তার নাম মো. ইসমাইল (৫০) বলে জানা গেছে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে বনানী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর কোনো গাড়িতে করে মরদেহ এনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

মুখে স্কচটেপ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহত ব্যক্তির মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল। তার পরনে ছিল নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।

নীল শার্টটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ব্যবহৃত পোশাকের মতো হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তিনি অটোরিকশাচালক হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। তবে শুধু পোশাকের ভিত্তিতে তার পেশা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

কয়েকটি প্রতিবেদনে পুলিশের বরাত দিয়ে নিহত ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্য কোথাও হত্যার সন্দেহ পুলিশের

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, অন্য কোনো স্থানে ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর রাতে বা ভোরের দিকে গাড়িতে করে মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে এনে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। তবে ঠিক কখন এবং কোন গাড়ি থেকে মরদেহটি ফেলা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিচয় শনাক্তে নেওয়া হয় আঙুলের ছাপ

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে তার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পুলিশ। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।

এরপর প্রাথমিকভাবে তার নাম মো. ইসমাইল বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে তার ঠিকানা, পেশা ও অন্যান্য পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ি শনাক্তের চেষ্টা

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিরাপত্তা ক্যামেরার আওতায় থাকায় সেখানে একটি মরদেহ কীভাবে ফেলে যাওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশ বলছে, যে স্থানে মরদেহটি পাওয়া গেছে, সেই নির্দিষ্ট জায়গাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে বলে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ কারণে অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবেই ক্যামেরার নজরদারির বাইরে থাকা স্থানটি মরদেহ ফেলার জন্য বেছে নিয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ের আশপাশ ও সংশ্লিষ্ট অংশের অন্যান্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভোর বা সকালের দিকে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করেছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কারণে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যার স্থান, কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles