কামরাঙ্গীরচরে কিশোরীকে ধর্ষণ: সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির কিশোরী; পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অর্থ পাবে ভুক্তভোগী

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় তার সৎবাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে জামাল হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

‘সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া আদালতের দায়িত্ব’

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ৫৬ বছর বয়সী জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছেন।

বিচারক বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা না হয়; যা কেবল দুর্ভাগ্যজনক ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি আদালতের দায়িত্ব সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা।’

জরিমানার অর্থ পাবে ভুক্তভোগী

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ কুমার গোমেজ জানান, জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা আদায় না হলে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিলামে পাওয়া অর্থ ভুক্তভোগী অথবা তার আইনগত উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয় কিশোরী

মামলার নথি অনুযায়ী, কিশোরীটি তার মা ও সৎবাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরে থাকত। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত সে।

২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট তার মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও কয়েক দফায় সৎবাবার ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কিশোরীটি। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরে একটি সন্তানের জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।

আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচারকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য গ্রহণ এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles