কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, নিজেরাই ওই হামলা ঘটিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে নিজেরাই হামলা করে বিএনপির ওপর দায় চাপানো হয়েছে। অথচ এ ঘটনায় জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের জামাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসব ঘটনা থেকে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
শিবগঞ্জে ‘গুপ্ত ও নিষিদ্ধদের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে’ মশাল মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
‘দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে’
সমাবেশে মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে, এ দেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর মেনে নেবে না।’
‘হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না’
বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দীর্ঘ ত্যাগের পর জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে পতনের হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’
দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।
মশাল মিছিলের পর সমাবেশ
সমাবেশের আগে উপজেলা চত্বর থেকে মশাল মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। মিছিলটি শিবগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর স্টুডিওতে হামলা চালিয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন এলাকার জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।



