বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল—ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর—নদী, পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চলের পাশাপাশি বহু জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। শত শত বছর ধরে গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু, বর্মন, হদি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, পোশাক, ধর্মীয় বিশ্বাস, উৎসব, সংগীত, নৃত্য এবং সামাজিক রীতিনীতি বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষ করে ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ এলাকায় এসব জনগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারিতেও এই তিন জেলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উঠে এসেছে।
তবে আধুনিকায়ন, মাতৃভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, ভূমি নিয়ে বিরোধ, কর্মসংস্থানের জন্য স্থানান্তর এবং মূলধারার সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে অনেক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখাও ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
গারো বা আচিক মান্দি
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সবচেয়ে পরিচিত জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি গারো। এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের ‘মান্দি’ বা ‘আচিক মান্দি’ পরিচয়ে অভিহিত করেন।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া, শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় তাদের দীর্ঘদিনের বসতি রয়েছে।
গারো সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মাতৃসূত্রীয় পারিবারিক ব্যবস্থা। বংশপরিচয় ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সাধারণত নারীর ধারায় চলে এবং পরিবারের সম্পত্তি সাধারণত কন্যাসন্তানের মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরিত হয়।
তবে মাতৃসূত্রীয় সমাজব্যবস্থাকে সরাসরি নারীর একচ্ছত্র সামাজিক শাসন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরিবার ও সমাজ পরিচালনায় নারী-পুরুষ উভয়েরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।
গারোদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, নৃত্য, সংগীত এবং উৎসব রয়েছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর মধ্যে ওয়ানগালা সবচেয়ে পরিচিত। ফসল ঘরে তোলার সঙ্গে সম্পর্কিত এই উৎসব গান, নাচ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করা হয়।
গারো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বর্তমানে খ্রিস্টধর্ম অনুসরণ করলেও তাদের প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রকৃতিকেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতির প্রভাব এখনো লোকাচার ও উৎসবের মধ্যে দেখা যায়।
কৃষিনির্ভর হাজং জনগোষ্ঠী
হাজংরা বৃহত্তর ময়মনসিংহের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠী। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া, শেরপুরের শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা এলাকায় তাদের বসতি রয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে হাজং জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষিনির্ভর। সমতল ভূমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সঙ্গে তাদের জীবন ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
হাজংদের নিজস্ব সামাজিক আচার, পোশাক, গান ও নৃত্যের ঐতিহ্য রয়েছে। কৃষিকাজ, ঋতুচক্র এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বর্তমানে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা এবং অন্যান্য আধুনিক পেশায়ও হাজং জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বেড়েছে।
কোচ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহ্য
কোচ জনগোষ্ঠীও বৃহত্তর ময়মনসিংহের বহু পুরোনো জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি। ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসতি রয়েছে।
একসময় কৃষিই ছিল তাদের প্রধান জীবিকা। বর্তমানে কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য পেশায়ও কোচ জনগোষ্ঠীর মানুষ যুক্ত হয়েছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে অন্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বসবাস এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তাদের ভাষা ও জীবনধারায় পরিবর্তন এলেও নিজস্ব সামাজিক পরিচয়, পারিবারিক রীতি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এখনো টিকে রয়েছে।
সংখ্যায় কম ডালু, বানাই, বর্মন ও হদি
বৃহত্তর ময়মনসিংহে গারো, হাজং ও কোচদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যায় ডালু, বানাই, বর্মন ও হদি জনগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করেন।
ডালুরা মূলত বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি ছোট জনগোষ্ঠী। হালুয়াঘাট এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় তাদের বসতির ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।
ভোগাই নদীসংলগ্ন ডালু এলাকা থেকেই তাদের বসতি বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত, অভিবাসন এবং অন্যান্য সামাজিক পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ডালু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বানাই, বর্মন ও হদি জনগোষ্ঠীরও নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। সংখ্যায় ছোট হওয়ায় তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ তুলনামূলকভাবে বেশি।
প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় জীবন
বৃহত্তর ময়মনসিংহের এসব জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জীবনধারার সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ, বন, নদী, ছড়া এবং কৃষিজমিকে কেন্দ্র করে তাদের বহু প্রজন্মের জীবন ও জীবিকা গড়ে উঠেছে।
ধান, শাকসবজি ও মৌসুমি ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি একসময় বনজ সম্পদ এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক উৎসও তাদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
কৃষি ও প্রকৃতিনির্ভর এই জীবনধারা তাদের লোকগান, নৃত্য, খাদ্যাভ্যাস, উৎসব ও ধর্মীয় আচারেও প্রভাব ফেলেছে।
তবে সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষকতা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
রঙিন পোশাক, গান ও নৃত্যের বৈচিত্র্য
বৃহত্তর ময়মনসিংহের জাতিগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম দৃশ্যমান দিক তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
গারো, হাজং, কোচসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষের নিজস্ব পোশাক ও অলংকারের ঐতিহ্য রয়েছে। উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে এখনো এসব পোশাকের ব্যবহার দেখা যায়।
তাদের সংগীত ও নৃত্যের ধারাও বৈচিত্র্যময়। ফসল তোলা, বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সামাজিক উৎসব ঘিরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব গান ও নাচের প্রচলন রয়েছে।
গারোদের ওয়ানগালা উৎসবের নৃত্য ও সংগীত এবং হাজংদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
ধর্মীয় বিশ্বাসেও বৈচিত্র্য
এ অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর ধর্মীয় পরিচয়ও একরকম নয়।
গারো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ খ্রিস্টান। অন্যদিকে হাজং, কোচসহ কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হিন্দুধর্মের অনুসারী বেশি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজস্ব প্রাচীন বিশ্বাস, লোকাচার ও প্রকৃতিকেন্দ্রিক ধর্মীয় সংস্কৃতির উপাদানও টিকে আছে।
ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও গ্রামভিত্তিক সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান এবং সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সংহতি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উৎসব ঘিরে প্রাণের মিলন
বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎসব বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম আকর্ষণ।
গারোদের ওয়ানগালা ফসল তোলার উৎসব হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নাচ, গান ও সামাজিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে এটি উদ্যাপন করা হয়।
হাজং, কোচ, বানাই ও অন্য জনগোষ্ঠীরও নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব রয়েছে। এসব আয়োজন শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের মাধ্যম নয়; নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, সংগীত, পোশাক ও লোকাচার পৌঁছে দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
জনশুমারিতে কী চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ২৭ হাজার ৬৫২। নেত্রকোনায় এই সংখ্যা ২১ হাজার ৬০৫ এবং শেরপুরে ১১ হাজার ৮২।
তবে জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকৃত সংখ্যা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া জনসংখ্যার হিসাবে পার্থক্য দেখা যায়।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের জাতিগত বৈচিত্র্য অবশ্য সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহাসিক স্মৃতি, ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিচয়ের অংশ।
হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ভাষা ও সংস্কৃতি
আধুনিক জীবন ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাতেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এর ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু পুরোনো ভাষা, গান, লোককাহিনি ও সামাজিক রীতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সংখ্যায় ছোট জনগোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। নতুন প্রজন্ম শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রধানত বাংলা এবং অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত ভাষার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পারিবারিক পরিসরেও কিছু মাতৃভাষার ব্যবহার কমছে।
ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, লোকগান এবং পুরোনো সামাজিক আচার সংরক্ষণ নিয়েও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সংস্কৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ, হালুয়াঘাটে একাডেমিও
ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। উৎসব আয়োজন, মাতৃভাষা চর্চা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-সংগীতের প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমিও নির্মাণ করা হয়েছে। গারো, হাজং, কোচ, বর্মন, ডালু, হদি, বানাই ও রাজবংশী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
তবে ২০১৯ সালে উদ্বোধনের পরও জনবল ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালু করা যায়নি। ফলে সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
বৈচিত্র্যের মধ্যেই বৃহত্তর ময়মনসিংহের পরিচয়
গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু, বর্মন, হদি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী বৃহত্তর ময়মনসিংহের ইতিহাসের বিচ্ছিন্ন কোনো অধ্যায় নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষি, সমাজ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ এই অঞ্চলের নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে।
পরিবর্তিত পৃথিবীতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষা, ভূমির সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সামাজিক রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এসব জনগোষ্ঠীর কোনো ভাষা, গান কিংবা শত বছরের কোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি সম্প্রদায়ের ক্ষতি নয়; সেটি বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া।



