ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ধর্ষণের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজীব (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে।
কুড়াল চাওয়ার কথা বলে দরজা খোলানোর অভিযোগ
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সৌদি আরবপ্রবাসী ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ছেলেটিকে ডেকে একটি কুড়াল চান।
ছেলেটি দরজা খুললে পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে ঢোকেন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে ছেলেটিকে বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এরপর অস্ত্রের মুখে ওই নারীকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অভিযুক্তদের একজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। একই সঙ্গে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় ঘটনা প্রকাশ করলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যায় পুলিশ
ঘটনার পর মা ও ছেলের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজীব নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন রাজীব। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাজীব নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনোতোষ বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



