পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ ১১ সেনা নিহত হয়েছেন। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে দুই কর্মকর্তাসহ ১১ সেনা প্রাণ হারান।
হামলার পর ওই এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। আইএসপিআরের দাবি, অভিযানে হামলার সঙ্গে জড়িত ১৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা
সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, নিরাপত্তা সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় তাদের গাড়িবহরের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র গোলাগুলি হয়।
সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ ১১ সদস্য নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও ‘স্যানিটাইজেশন’ অভিযান চালানো হচ্ছে।
১৪ সন্ত্রাসী নিহতের দাবি
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার পর পরিচালিত অভিযানে নিরাপত্তা সদস্যরা ১৪ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছেন।
আইএসপিআর নিহত হামলাকারীদের ‘ভারতীয় মদদপুষ্ট’ বলে দাবি করেছে। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র হামলার পেছনে ভারতের সহায়তার অভিযোগ করে আসছে। তবে নয়াদিল্লি এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংগঠন স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বেড়েছে সহিংসতা
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র। বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার একটি বড় অংশের জন্য তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে দায়ী করে থাকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে সংগঠনটির সদস্যরা। আফগান কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।




