মাদারীপুরের শিবচরে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধ করে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম শম্পা খাতুন। তার ছেলে আবির এখনো নিখোঁজ। শিশুটির সন্ধানে নদীতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার একটি মাদ্রাসার পাশের ঝোপ থেকে শম্পার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার পরিচয় জানা না গেলেও পরে পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক মোল্লা শম্পাকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে শিশুটিকে শ্বাসরোধের পর আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের। তবে আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঝোপের মধ্যে পড়ে ছিল মরদেহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকার খানবাড়ি দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে ঝোপের মধ্যে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত নারী শম্পা খাতুন নাটোরের লালপুর উপজেলার আত্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির।
শম্পার বাবা জানান, বুধবার বিকেলে একজন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। একই সঙ্গে জানতে পারেন, তার নাতি আবিরকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি শিবচরে এসে ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
আদালতে পরিচয়, পরে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় শম্পার স্বামী কারাগারে থাকার সময় মাদারীপুর আদালতে ফারুক মোল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
পুলিশের অভিযোগ, সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক পরে শম্পাকে দেখা করার জন্য ডেকে বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং মরদেহ নির্জন স্থানের ঝোপে ফেলে রাখা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি। শম্পার শিশু সন্তান আবিরও তখন তার সঙ্গে ছিল।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক দাবি করেছেন, পরে আবিরকে শ্বাসরোধ করে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেন তিনি।
শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে খুঁজে পেতে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার
হত্যা মামলা হওয়ার পর শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর এলাকা থেকে ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পরে ফারুকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শম্পার একটি স্বর্ণের নাকফুল ও রুপার হার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এক জোড়া জুতা এবং চুলায় পোড়ানো অবস্থায় শম্পার ওড়নাও উদ্ধার করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও গাড়ি চুরির একটি অভিযোগে ফারুক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
‘ক্লুলেস’ হত্যা থেকে সন্দেহভাজন শনাক্ত
সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, শুরুতে নিহত নারী এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন—কারও পরিচয় পুলিশের কাছে জানা ছিল না।
তিনি বলেন, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
হত্যাকাণ্ডে ফারুক ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশু আবিরের সন্ধানে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

