পুরোনো কর্মচারীদের নাম ধরে ডেকে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Date:

Share post:

মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালীন সময়ের পুরোনো কর্মচারীদের দেখে কাছে ডেকে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু সৌজন্য বিনিময়ই নয়, তাদের পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো কর্মচারীদের চিনে নাম ধরে ডেকে নেওয়ার এই ঘটনাকে স্মরণীয় ও আবেগঘন বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, “১৯ বছর আগে যখন ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়কার কয়েকজন কর্মচারীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনে ফেলেন। তিনি নাম ধরে ডেকে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এটি কার্যালয়ের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।”

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান। কার্যালয়ে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী বাগানে একটি গাছ রোপণ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দূর থেকে কর্মচারীদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে দেখে প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ডাকেন। নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে ওই কর্মচারী দ্রুত এগিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে করমর্দন করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও কয়েকজন পুরোনো কর্মচারীকে নাম ধরে ডেকে কথা বলেন। যারা ১৯ বছর আগে নবীন ছিলেন, তাদের অনেকের চুল এখন পাক ধরেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদের চিনতে ভুল করেননি।”

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই তেজগাঁও কার্যালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় যারা এখানে কর্মরত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও চাকরিতে রয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণে পুরোনো কর্মচারীরা যেমন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, তেমনি অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিস্মিত হন তারেক রহমানের আন্তরিকতা ও ব্যবহারে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গি সবার নজর কেড়েছে।”

এরপর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের রেড ব্লকে প্রবেশ করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার অবস্থিত। সেখানে নিজের চেয়ারে বসে তিনি দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।

স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত দুই দিন তারেক রহমান সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে অফিস করেন। শনিবারই প্রথমবারের মতো তিনি তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও আচরণ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ ও স্মৃতিচারণমূলক এই উদ্যোগ কর্মক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

spot_img

Related articles

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় ৩৫ বছর...

ইসলাম গ্রহণের খবর অস্বীকার করলেন রবার্তো কার্লোস

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবর অস্বীকার করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস। মরক্কোর ফুটবল এজেন্ট সোহাইলা এল তাহিরিকে বিয়ের...

সাংবাদিক দেবাশীষসহ চার স্বজনের মরদেহ শনিবার দেশে আসতে পারে

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ শনিবার দেশে আনা...

মির্জা ফখরুল: শিক্ষকতা থেকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি থেকে তৃণমূলের রাজনীতি, পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী—এরপর দীর্ঘদিন দেশের অন্যতম...