লালন উৎসব ঘিরে পুলিশি তল্লাশি, বাউলদের হয়রানির অভিযোগ

১৭ অক্টোবর ছেঁউড়িয়ায় শুরু তিন দিনের মহোৎসব; মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই অভিযান, দাবি পুলিশের

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আয়োজিত উৎসবে যোগ দিতে আসা ফকির, দরবেশ, বাউল ও লালন অনুসারীদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উৎসব শুরুর আগেই আখড়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি এবং নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। তবে জেলা পুলিশের দাবি, কাউকে হয়রানি নয়, বরং মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াধামে তিন দিনব্যাপী এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লালনের তিরোধান দিবস ঘিরে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাউল, সাধু, ফকির, লালন অনুসারী ও দর্শনার্থীরা এখানে সমবেত হন।

এবার উৎসবের প্রস্তুতি চলাকালে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে লালন অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করা হচ্ছে।

আখড়াবাড়ি ও আশপাশে পুলিশের বিশেষ অভিযান

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় লালন আখড়াধাম ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ফয়সাল মাহমুদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মেলা চত্বর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় টহল এবং তল্লাশি চালান।

এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র তল্লাশি করা হয়। পাশাপাশি আখড়া ও মেলা চত্বরে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার এবং কেনাবেচা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান পুলিশের

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লালন উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা চত্বর ও আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে গাঁজাসহ যেকোনো মাদকদ্রব্যের সেবন, পরিবহন ও কেনাবেচা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে জেলা পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আখড়াবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকাগুলো পুলিশি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উৎসব চলাকালেও টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

‘উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতেই অভিযান’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মিলনমেলা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করাই পুলিশের লক্ষ্য।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।

তবে বাউল ও লালন অনুসারীদের হয়রানির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

১৭ অক্টোবর শুরু হচ্ছে তিন দিনের উৎসব

ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ছেঁউড়িয়ার আখড়াধামে তিন দিনব্যাপী উৎসব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

লালনের দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও সাধনাকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন বাউল ও লালন অনুসারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা।

এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধু, ফকির, বাউলশিল্পী ও দর্শনার্থীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগত সাধু-ফকির ও দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles