নেপালে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও সেতু বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ৫

গোর্খা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীর পানি কয়েক ঘণ্টায় সাড়ে ছয় মিটার বৃদ্ধি; ৫০ জনকে উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির গোর্খা জেলার বুধি গণ্ডকী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জনকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার গোর্খা জেলায় এ বন্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধি গণ্ডকী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধানে তৎপরতা চলছে।

কয়েক ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে সাড়ে ছয় মিটার

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার সময় বুধি গণ্ডকী নদীর একটি পর্যবেক্ষণস্থলে পানির উচ্চতা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় মিটার বেড়ে যায়।

সেখানে পানির উচ্চতা প্রথমে ছিল দুই মিটার। অল্প সময়ের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় সাড়ে আট মিটারে পৌঁছায়।

পানির এমন আকস্মিক বৃদ্ধি নদীতীরবর্তী বসতিগুলোর জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। প্রবল স্রোতের কারণে অনেক বাসিন্দা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বন্যার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে নেমে আসা প্রবল জলস্রোত একটি সম্পূর্ণ ভবন কমপ্লেক্স ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ভেসে গেছে এক ডজন বাড়ি ও ঝুলন্ত সেতু

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় প্রায় এক ডজন বাড়ি এবং কয়েকটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় এসব ঝুলন্ত সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে প্রকল্পটির কিছু নির্মাণ সরঞ্জাম ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির মোট ক্ষয়ক্ষতি কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যে দুর্যোগ

নেপালের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব দশাইন উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যে গোর্খা জেলায় এ বন্যা দেখা দিয়েছে।

উৎসবের প্রথম দিন ঘিরে স্থানীয় পরিবার ও শিশুদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় আকস্মিক বন্যায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের আশঙ্কায় রয়েছেন।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে, তাদের পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগের বন্যার ক্ষত কাটার আগেই নতুন বিপর্যয়

নেপাল সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই গোর্খা জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় দেশটির দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

প্রায় দুই মাস আগে তিব্বত সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছিল। ওই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়।

পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে নদীর উজানে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়ে গেলে নিচু এলাকার জনবসতি অল্প সময়ের মধ্যে প্লাবিত হতে পারে।

নতুন বন্যার পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles