নৃত্যশিল্পীদের নৌকায় নিয়ে ধর্ষণের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফেসবুকে যোগাযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেকে নেওয়া হয়; তিতাসের মাঝনদীতে দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকায় ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ (১৮) নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৯ সিলেটের অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

ফেসবুকে যোগাযোগ, অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেওয়া

এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ‘রাকিব’ নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে কুমিল্লার চান্দিনার একটি নৃত্যশিল্পী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর ওই দলের দুই নারী ও একজন পুরুষ সদস্য নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় আসেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখান থেকে মুজাহিদসহ দুই যুবক তাঁদের একটি অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। পরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে তিতাস নদীর মাঝখানে নেওয়া হয়।

নদীর মাঝখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিতাস নদীর মাঝখানে যাওয়ার পর একপর্যায়ে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়। সেখানে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে নাসিরনগরের গোকর্ণঘাট এলাকায় তাঁদের নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁরা থানায় গিয়ে মামলা করেন।

আরেক আসামির তথ্য ধরে মুজাহিদের সন্ধান

এসআরবি-৯ সিলেটের অধিনায়ক তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, মামলার আরেক আসামি সাত্য বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।

একজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে মুজাহিদ সিলেটের বিয়ানীবাজারে তাঁর নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজাহিদ ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনুষ্ঠানে নেওয়ার জন্য চুক্তির কথা জানিয়েছেন। এ জন্য বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ঘটনায় আরও পাঁচ সহযোগীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles