দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দিষ্ট নাগরিকদের ওপর নতুন মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধ

বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ; যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান প্রিটোরিয়ার

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণভিত্তিক বৈষম্য, সহিংসতায় উসকানি এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণে সহায়তার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নতুন এই নীতি ঘোষণা করেন। তবে কারা এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন, প্রাথমিক ঘোষণায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন ব্যবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকার সব নাগরিকের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, বর্ণভিত্তিক বৈষম্য অথবা জাতিগত ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আসন্ন সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে—এমন আইন বা নীতি প্রণয়ন কিংবা বাস্তবায়নে দায়ী বা সহযোগী বিদেশি নাগরিকদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার নীতির সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব নীতির মাধ্যমে আফ্রিকানার ও অন্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে।

মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, আফ্রিকানার সংখ্যালঘুদের ঘিরে বর্ণগত নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করবে না। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান দক্ষিণ আফ্রিকার

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপনের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের বক্তব্য, বর্ণবাদের যুগ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর উদ্দেশ্যেই ভূমি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নীতিগুলো নেওয়া হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালানোর মার্কিন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে প্রিটোরিয়া।

‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’র দাবি নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প দেশটিতে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে বলে দাবি করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যেও দাবিটির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসানের তিন দশকের বেশি সময় পরও কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানরা কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি সম্পদশালী এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের হারও বেশি।

একের পর এক পদক্ষেপে সম্পর্কে টানাপোড়েন

২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকায় সহায়তা কমিয়েছে এবং শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ শরণার্থী কর্মসূচিও চালু করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি ও বর্ণনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দেশটির করা গণহত্যার মামলাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এর মধ্যে নতুন ভিসা বিধিনিষেধ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ভিসা বিধিনিষেধ আরও কিছু পদক্ষেপের প্রথম ধাপ।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles