লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে আরও ১৬৮ জন বাংলাদেশিকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিরা লিবিয়ার বেনগাজি শহরের গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ায় আটক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।
লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দেশে ফিরে অভিযোগ করেছেন।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের চেষ্টায় লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই পথে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়েন।
বিমানবন্দরে স্বাগত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা ঢাকায় বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।
দেশে ফেরার পর প্রত্যেককে যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে আইওএম। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



