জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ বিভিন্ন দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এ মন্তব্য করেন। এর একদিন আগে আইএইএর ৩৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে।
নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু ইস্যু
আইএইএ পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে দেশটির অঙ্গীকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম আইএইএ পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিল। প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি উত্থাপন করে।
ভোটে ২৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয়। রাশিয়া, চীন ও নাইজার বিপক্ষে ভোট দেয়। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে এবং একটি দেশ ভোট দেয়নি।
সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক’ বলছে তেহরান
মোহসেন রেজাই আইএইএর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার এ ধরনের ‘রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ এনপিটির ওপর দেশগুলোর আস্থা দুর্বল করবে এবং চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।
ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরান আইএইএর সর্বশেষ সিদ্ধান্তকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সহযোগিতা স্থগিত নিয়ে উদ্বেগ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, আইএইএর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা পুরোপুরি স্থগিত থাকা এবং সংস্থাটির উদ্বেগ নিরসনে তেহরানের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইরানকে তার আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং আইএইএর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। দেশ চারটির দাবি, সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি তেহরান।
ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে পরমাণু স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়েও উদ্বেগ
আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে। সংস্থাটি এই মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে আসছে।
এনপিটি অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্রধারী নয় এমন সদস্যরাষ্ট্রগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার অঙ্গীকার করে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি আইএইএর তদারকির আওতায় থাকে।



