মাদ্রাসায় শিশুদের ভর্তি করিয়ে তাদের ‘ঈমান ও জীবন ধ্বংস করা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অনেক মাদ্রাসায় ইসলামের মানবিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর মতবাদ, অসহিষ্ণুতা ও নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তান ভর্তি করার আগে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন
ইমাম হায়াতের অভিযোগ, কিছু কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে এবং এসব ঘটনায় যথাযথ প্রতিরোধ ও জবাবদিহি দেখা যায় না।
তিনি মাদ্রাসাগুলোকে ঘিরে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসাগুলো সম্পর্কে যে ব্যাপক অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো সামগ্রিক সরকারি পরিসংখ্যান বা তদন্ত প্রতিবেদন তিনি উল্লেখ করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
‘আসল ইসলামের শিক্ষা নেই’
ইমাম হায়াত দাবি করেন, অনেক মাদ্রাসায় তাওহিদ, রিসালাত, মানবতা ও ইসলামের শান্তিপূর্ণ আদর্শের যথাযথ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মতবাদকে ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠার কারণে শিক্ষার্থীরা ইসলামের মানবিক ও রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাচ্ছে না। মাদ্রাসাশিক্ষাকে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
অভিভাবকদের উদ্দেশে ইমাম হায়াত বলেন, ধর্মীয় আবেগের কারণে যাচাই না করে সন্তানকে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষার মান এবং কী ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন ও আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনার অভিযোগ এবং সামগ্রিক মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণীকৃত দাবি এক বিষয় নয়; প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পৃথক তদন্তের বিষয়।



