কয়েক মাসের অপেক্ষার পর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। তবে জার্সি প্রকাশের পর এর নকশার মৌলিকত্ব, ১ হাজার ৬০০ টাকা মূল্য, সমর্থকদের কাছ থেকে নেওয়া নকশার উপাদানের স্বীকৃতি এবং বিক্রি থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়ের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে জার্সি উন্মোচন করে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দৌড়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, জার্সি আরও আগেই প্রস্তুত ছিল। তবে কখন এটি প্রকাশ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের হাতে ছিল না।
তিনি বলেন, জুন থেকেই জার্সি প্রকাশের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি মার্চেও এটি করা সম্ভব ছিল, কিন্তু প্রকাশের সময় নির্ধারণ করেছে বাফুফে।
১ হাজার ৩০০ নকশা থেকে ৩৪ উপাদান
নতুন জার্সির নকশা তৈরির আগে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ধারণা আহ্বান করেছিল দৌড়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই উদ্যোগে ১ হাজার ৩০০টির বেশি নকশা জমা পড়ে। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান চূড়ান্ত জার্সিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মূল জার্সি সাদা। এতে লাল রঙের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালার জলছাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে লাল শর্টস ও সাদা মোজা। বাংলা বর্ণমালার মাধ্যমে মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানানোর কথা জানিয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।
অ্যাওয়ে জার্সিতে প্রাধান্য পেয়েছে সবুজ ও লাল। বাংলাদেশের নদী, ধানক্ষেত, বন ও প্রকৃতির সবুজ রূপ থেকে এর ধারণা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দৌড়।
তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ১ হাজার ৩০০টির বেশি নকশা থেকে উপাদান নেওয়া হলেও উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কোনো নকশাকার বা সমর্থকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
নকশার মৌলিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন
জার্সি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কয়েকটি নকশাগত উপাদানের সঙ্গে আগে থেকেই প্রচলিত নকশার মিল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে সাদা জার্সিতে ব্যবহৃত বাংলা বর্ণমালার জলছাপের বিন্যাসের সঙ্গে অনলাইনে বিক্রি হওয়া একটি ডিজিটাল শিল্পকর্মের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূল জার্সির লাল রঙের বিস্তৃত পাশের অংশের সঙ্গেও তুরস্কের ২০২৪ ইউরো জার্সির নকশার মিলের কথা বলা হচ্ছে। একইভাবে বাংলাদেশের অনুশীলন জার্সি ও এর প্রচারণার কিছু অংশের সঙ্গে পুমার ম্যানচেস্টার সিটির পোশাকের নকশাগত সাদৃশ্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
তৃতীয় জার্সি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়
জাতীয় দলের তৃতীয় জার্সিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আবিদ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তৃতীয় জার্সির নকশা বাফুফের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি এখনো অনুমোদন পায়নি। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর জার্সিটি বাজারে আসতে পারে।
সাফের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের জার্সির সঙ্গে রঙের মিল হলে বিকল্প জার্সির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতার পর তৃতীয় জার্সি প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জার্সির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা
নতুন জার্সির সাধারণ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। নিজের পছন্দের নাম ও নম্বর যোগ করলে দাম হবে ১ হাজার ৭০০ টাকা।
দৌড়ের দাবি, আগের জার্সির তুলনায় নতুনটির কাপড়ের মান উন্নত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি ঘামে ভেজার পর জার্সিটি প্রায় আট মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বাংলাদেশের বাজারে আন্তর্জাতিক ক্লাব ও জাতীয় দলের বিভিন্ন উচ্চমানের প্রতিরূপ জার্সি প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ফলে জাতীয় দলের জার্সির মূল্য সাধারণ সমর্থকদের নাগালের মধ্যে আছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে আবিদ বলেন, ‘এটি কি সমর্থকদের নাগালের মধ্যে? সত্যি বলতে, আমার কাছে এটি নাগালের মধ্যেই। বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে হয়তো নয়।’
এক লাখ জার্সি বিক্রির লক্ষ্য, বাফুফের আয় কত
দৌড়ের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দলের এক লাখ জার্সি বিক্রি করা। প্রতিটি জার্সির মূল দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা হিসাবে এক লাখ জার্সির খুচরা বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১৬ কোটি টাকা।
তবে এই বিক্রি থেকে বাফুফে ঠিক কত টাকা পাবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবিদ আলম চৌধুরী সুনির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি। বাফুফে ও দৌড়ের মধ্যকার বাণিজ্যিক চুক্তির আর্থিক শর্তও প্রকাশ করা হয়নি।
জার্সির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাফুফেকে দেওয়া রয়্যালটিসহ বিভিন্ন খরচের বিষয় সামনে এলেও প্রতি জার্সি বিক্রি থেকে ফেডারেশন কী পরিমাণ অর্থ পাবে, সেই তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
নতুন জার্সিতে বাংলাদেশের ভাষা, প্রকৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের বিভিন্ন উপাদান তুলে ধরেছে দৌড়। একই সঙ্গে উন্নত কাপড় ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে উন্মোচনের পর নকশার মৌলিকত্ব, সমর্থকদের অবদানের স্বীকৃতি, মূল্য এবং বাফুফের আর্থিক অংশ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।



