বড়পুকুরিয়ার কয়লায় ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্দেশ

বিদ্যমান কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো, মাতারবাড়িতে নতুন এলএনজি অবকাঠামো ও পায়রার দ্বিতীয় পর্যায় নিয়েও পরিকল্পনা

বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ ধারার আলোচনায় অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় নতুন ৬০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি বর্তমানে চালু কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সংস্কারকাজও চলছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটের ২৭৫ মেগাওয়াট। আগস্টে প্রথম ইউনিটটি কারিগরি ত্রুটির পর পুনরায় চালু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে এবং সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাতারবাড়িতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় মাতারবাড়িতে চীন সরকারের সঙ্গে সরকারিভাবে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান সালাউদ্দিন আহমদ।

সরকার ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণেরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে গ্যাস সরবরাহে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

পায়রার দ্বিতীয় পর্যায় নিয়েও আলোচনা

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সঞ্চালন ও গ্রিড লাইনের ঘাটতি হলে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করে অবকাঠামো নির্মাণ করবে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পরিকল্পনা

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খনন জোরদার করেছে। ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগও সচল করা হয়েছে।

ভোলায় পাওয়া গ্যাসকে কেন্দ্র করে সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের চাহিদা পূরণে মাতারবাড়িতে বড় একটি টার্মিনাল ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার লক্ষ্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা, বায়ু, সৌরশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সংসদে জানান।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles