দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ২৮ ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তাঁদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯/৪৬ এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চিৎকার শুনে ছুটে আসেন বিজিবি ও গ্রামবাসী
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে একদল মানুষকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় সীমান্তসংলগ্ন মাঠে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা জাহেনুর বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে বিজিবি সদস্য ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত সীমান্তে জড়ো হন।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে পিছু হটেন।
দ্বিতীয় দফায়ও চেষ্টা
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, প্রথম দফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কিছু সময় পর পাশের আরেকটি এলাকা দিয়ে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়।
সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।
২৪ পুরুষ ও ৪ নারী
সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম জানান, বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ২৮ জনকে সীমান্তে আনা হয়েছিল।
তাঁদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও চারজন নারী ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাঁদের আবার ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সীমান্তে সতর্ক বিজিবি ও স্থানীয়রা
দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান জানিয়েছেন, পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসী বিজিবিকে সহযোগিতা করেছেন।
ঘটনার পর বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন।
বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীরাও নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন। পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



