স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের বিশেষ ‘গোলাপি দিবসে’ ব্যাট হাতে স্মরণীয় এক ইনিংস খেললেন ডেভিড মিলার। নিজের জার্সিতে লেখা ছিল স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা মা জেনি মিলারের নাম। সেই জার্সি গায়েই ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ রানের ইনিংস খেললেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটার।
অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাও করলেন সেঞ্চুরি। তাঁদের জোড়া শতকে ওয়ান্ডারার্সে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩৬৬ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে লড়াই করেও ৩২ রানে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার আধিপত্যও অক্ষুণ্ন থাকল। দুই দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এটি প্রোটিয়াদের টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়।
ক্যানসারজয়ীদের নামে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি
২০১৩ সাল থেকে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহে বছরে অন্তত একটি ম্যাচ গোলাপি জার্সিতে খেলে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার সেই উদ্যোগে যোগ করা হয় ব্যক্তিগত আবেগের নতুন মাত্রা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের জার্সির পেছনে নিজেদের নামের পরিবর্তে লেখা ছিল স্তন ক্যানসারজয়ীদের নাম। ম্যাচ শুরুর আগে সেই নারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন ক্রিকেটাররা।
এই উদ্যোগে এইডেন মার্করামের জার্সিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেটার তাজমিন ব্রিটসের মা জেলডিন ব্রিটসের নাম।
আর ডেভিড মিলারের জার্সিতে ছিল তাঁর নিজের মা জেনি মিলারের নাম।
মিলার বলেন, গত কয়েক বছরে তাঁর মাকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিটি জার্সিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক যুক্ত করার উদ্যোগটিকে বিশেষ উল্লেখ করে মায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটাও তাঁর জন্য আনন্দের বলে জানান তিনি।
বাভুমার নির্ভরতার সেঞ্চুরি
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২১ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১২৫। সেখান থেকে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন বাভুমা ও মিলার।
বাভুমা ধীরে ধীরে নিজের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান। ৫৫তম ওয়ানডে ইনিংসে শতক পূর্ণ করেন তিনি।
জ্যাক এডওয়ার্ডসের ধীরগতির বাউন্সার মিডউইকেটে ঠেলে এক রান নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক।
এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য এডওয়ার্ডসের বলে ডিপ কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১১৬ বলে ১০৩ রান করেন বাভুমা।
মিলারের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তাঁর জুটি থেকে আসে ১৫৬ বলে ১৩২ রান।
মায়ের নামের জার্সিতে মিলারের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস
বাভুমা যখন আউট হন, মিলারের রান তখন ৯২। কিন্তু সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্ট্রাইক পাচ্ছিলেন না তিনি।
৯৮ রানে পৌঁছানোর পরও অপেক্ষা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত জশ হ্যাজলউডের বলে এক রান নেওয়ার পর পরবর্তী সুযোগেই জেভিয়ার বার্টলেটকে পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে নিজের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিলার।
এরপর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি।
শারীরিক সমস্যার মধ্যেও শেষ ২০ বলে ৩৯ রান করেন মিলার। শেষ পর্যন্ত ৯৩ বলে ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ রান করে ফেরেন। এডওয়ার্ডসের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।
মিলারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এডওয়ার্ডস।
৩৬৬ রানের লক্ষ্যও তাড়া করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশাল সংগ্রহের পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৬৬ রান। এর আগে ওয়ানডেতে এত বড় লক্ষ্য কখনো সফলভাবে তাড়া করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
তারপরও শুরু থেকেই জয়ের লক্ষ্যেই এগোয় সফরকারীরা। ইনিংসের অর্ধেক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার একই পর্যায়ের স্কোরের চেয়ে ৫০ রান এগিয়েও ছিল অস্ট্রেলিয়া, হাতে ছিল একটি উইকেট বেশি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে পথ হারায় তারা। ২০৩ রানে সব উইকেট হারিয়ে ৩২ রানের পরাজয় মেনে নিতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।
এর আগের ম্যাচেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ডারবানে ইনিংসের অর্ধেক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ৫১ রান এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানের মধ্যে ১০ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি ৬৭ রানে হেরেছিল তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক আধিপত্য আরও দীর্ঘ হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা।
সিরিজের শেষ ম্যাচ বুধবার পচেফস্ট্রুমে।
একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আরেকটি ফল ছিল হতাশার। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে রাগবিতে ওয়ালাবিদের কাছে ৪২-৩৮ ব্যবধানে হারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্প্রিংবকস।
তবে জোহানেসবার্গের গোলাপি ওয়ান্ডারার্সে দিনটি ছিল বাভুমা ও মিলারের। বিশেষ করে মায়ের নাম লেখা জার্সিতে মিলারের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস গোলাপি দিবসকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।



