আমার জানের জান কোথায়?

সাত মাসে ১৫,৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি, এখনো ফেরেনি ২,০৩৮ জন; কেউ সন্তান খুঁজছেন কয়েক দিন, কেউ অপেক্ষায় বছরের পর বছর

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনের ডায়াসে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন স্বপ্না আক্তার। পাশে তাঁর ১০ বছরের ছেলে সিয়াম। ছেলেটির হাতে ছোট বোন রূপার ছবি।

স্বপ্নার কণ্ঠে একটাই আকুতি—কেউ কি তাঁর মেয়েকে দেখেছেন?

এক বছর পেরিয়ে গেছে। তিন বছরের রূপা বাসার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেনি। মা জানেন না, মেয়েটি কোথায় আছে, কার কাছে আছে, এমনকি বেঁচে আছে কি না। তবু আশা ছাড়েননি।

কেউ যদি তাঁর মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারেন, তবে নিজেদের ভিটেবাড়িও দিয়ে দিতে রাজি তিনি।

সন্তানকে একবার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কাছে নিজের শেষ সম্বলটুকুও যেন তাঁর কাছে আর মূল্যবান নয়।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বপ্না একা ছিলেন না। সন্তান হারানো আরও প্রায় ৪০টি পরিবার এসেছিল একই প্রশ্ন নিয়ে—তাদের শিশুরা কোথায়?

কারও সন্তান আট দিন ধরে নিখোঁজ, কারও ৩৭০ দিন। আবার কোনো পরিবারের অপেক্ষা ছয় হাজার দিনেরও বেশি।

মা-বাবাদের হাতে ছিল হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের ছবি। কেউ প্রকাশ্যে কাঁদছিলেন, কেউ চুপচাপ চোখ মুছছিলেন। একজনের সন্তান হারানোর গল্প শুনে আরেকজনের পুরোনো ক্ষত যেন আবার খুলে যাচ্ছিল।

বাসার পাশ থেকেই হারিয়ে যায় তিন বছরের রূপা

স্বপ্না আক্তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে থাকেন। স্বামী মো. রাজন ভ্যানে করে শিশুদের খেলনা বিক্রি করেন।

গত বছরের ২৯ আগস্ট বাসার কাছের একটি দোকানের সামনে থেকে তিন বছরের রূপা নিখোঁজ হয়।

পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণ শিশুটিকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

পরিবার পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও রূপার কোনো সন্ধান মেলেনি।

স্বপ্নার বড় সন্তান সিয়ামও বোনের অপেক্ষায় আছে।

মায়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে সে বোনের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। পরিবারটির প্রতিটি দিনই এখন যেন একই প্রশ্নে আটকে আছে—রূপা কোথায়?

স্বপ্না বলেন, মেয়েটি বেঁচে আছে না মারা গেছে, সেটিও তাঁর জানা নেই। কিন্তু সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা তিনি ছাড়তে পারেন না।

মানুষ যেন রূপার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়—এই অনুরোধও করেন তিনি। জীবনের শেষ হওয়ার আগে অন্তত একবার মেয়েকে দেখতে চান এই মা।

‘আমার সব দিয়ে দেব, শুধু সন্তানকে চাই’

রাজবাড়ীর পাংশার মো. নজরুল ইসলামের অপেক্ষাও এক বছরের বেশি সময়ের।

তাঁর ছেলে মো. তামিম ওরফে আবদুল্লাহর বয়স ১৫ বছর। স্থানীয় সরিষা প্রেমটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।

২০২৫ সালের ২০ মে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তামিম। এরপর আর ফেরেনি।

নজরুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল। চাকরিজীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ নিজের সন্তান হারিয়ে এখন তিনিই অসহায় এক বাবা।

দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছেলেকে খুঁজেছেন। প্রচলিত অনুসন্ধানের পথ শেষ হওয়ার পর কবিরাজের কাছেও গেছেন। এমনকি ‘জিন নামান’—এমন দাবি করা মানুষের কথাও বিশ্বাস করেছেন।

কারণ তখন যুক্তি নয়, সন্তানকে ফিরে পাওয়ার সামান্য সম্ভাবনাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেছেন, সন্তান ফিরে এলে নিজের যা কিছু আছে, সব দিয়ে দিতে প্রস্তুত।

বোর্ডে টাঙানো নিখোঁজ শিশুদের ছবির মধ্যে নিজের ছেলে তামিমের ছবি দেখছেন বাবা নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে।

পাঁচ মিনিটের ব্যবধান, নেই দুই বছরের তোহা

তহুরা ইসলামের ছেলে মো. তোহা আদনানের বয়স মাত্র দুই বছর।

মা নবাবগঞ্জের দোহায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একটি কক্ষে শিশুকে মুঠোফোন দিয়ে বসিয়ে রেখে পাশের কক্ষে যান।

মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, ছেলে নেই।

বিছানায় মুঠোফোনটি পড়ে আছে।

এরপর থেকে মা শিশুটির সন্ধানে ঘুরছেন। এক মাস ২০ দিন পার হয়ে গেছে। থানায় জিডিও করেছেন। কিন্তু সন্তানকে এখনো পাওয়া যায়নি।

অভিভাবকের জীবনে মাত্র পাঁচ মিনিট কখনো এত দীর্ঘ হতে পারে—তোহার নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার প্রতিদিনই যেন সেই বাস্তবতা অনুভব করছে।

যমজ দুই বোনের একজন আছে, আরেকজন নেই

চম্পা বেগমের দুই যমজ মেয়ে—সামিয়া ও লামিয়া।

অনুষ্ঠানে লামিয়াকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন চম্পা ও তাঁর স্বামী সবুজ মিয়া।

দুই শিশুর চেহারায় মিল। অথচ বাড়িতে এখন একজনই আছে।

আড়াই বছর আগে বাড়ির সামনে খেলছিল সামিয়া। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় সে।

পরিবার প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছিল। ওই ব্যক্তি কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে যান। কিন্তু সামিয়ার সন্ধান মেলেনি।

এর মধ্যে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি শিশুকে দেখে চম্পার মনে হয়, সেটিই তাঁর হারানো মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি যশোরের একটি পরিবারের কাছে রয়েছে। সেখানে পর্যন্ত ছুটে যান মা।

কিন্তু তাঁর দাবি, তিনি প্রত্যাশিত পুলিশি সহযোগিতা পাননি। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, ওই শিশুটি তাঁর মেয়ে নয়।

একজন মায়ের কাছে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। কারণ প্রতিদিন পাশে থাকা যমজ মেয়ে লামিয়ার মুখেই তিনি হারানো সামিয়াকে দেখতে পান।

১,৯৭৪ দিন ধরে খাদিজার অপেক্ষা

চাঁদপুরের শিশু খাদিজার বয়স ছিল ছয় বছর। পাশের বাড়িতে খেলতে গিয়ে হারিয়ে যায় সে।

তারপর কেটে গেছে ১ হাজার ৯৭৪ দিন।

ধামরাইয়ের পাঁচ বছরের গনেশও পাশের বাড়িতে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তার পরিবার অপেক্ষা করছে ৩৩৩ দিন ধরে।

দিন যত বাড়ে, নিখোঁজ শিশুর পরিবারগুলোর জন্য অপেক্ষার ধরনও বদলে যায়।

প্রথম কয়েক দিন পরিচিত এলাকা, আত্মীয়স্বজন, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা থানায় খোঁজ চলে। এরপর মাস গড়িয়ে বছর হয়। নতুন কোনো খবর পেলেই পরিবার ছুটে যায় এক জেলা থেকে আরেক জেলায়।

তারপরও ঘরের দরজার দিকে তাকানোর অভ্যাস অনেক পরিবারেরই বদলায় না।

মুক্তিপণের টাকা নিয়েও ফেরেনি মানতাশা

দিনাজপুরের মনিরুজ্জামান মনির মেয়ে মানতাশার বয়স আট বছর।

গত বছরের মে মাসে বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

পরিবারের কাছে মুক্তিপণও চাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাবা। টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরও মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেননি।

অনুষ্ঠানে মানতাশার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মনিরুজ্জামান।

অপহরণের ঘটনায় পরিবারের জন্য অর্থের ক্ষতি অনেক সময় বড় বিষয় নয়; সবচেয়ে বড় আঘাত হলো টাকা দেওয়ার পরও সন্তানকে ফিরে না পাওয়া এবং এরপর কোনো নিশ্চিত খবর না থাকা।

এক বাবা মেয়েকে ফিরে পেলেন, কিন্তু অপেক্ষায় মারা গেলেন মা

এত হতাশার মধ্যেও অনুষ্ঠানে ছিল একটি ফিরে পাওয়ার গল্প। কিন্তু সেই গল্পেও আছে গভীর বেদনা।

আজাদ রহমানের সাত বছরের মেয়ে আশফিয়া গত বছরের জুলাইয়ে টঙ্গীতে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়েছিল।

আজাদের অভিযোগ, কর্মস্থলের পূর্বশত্রুতার জেরে তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়।

পরে মেয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাকে পপকর্ন খাইয়ে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়েছিল। শিশুটি নিজের বাড়ির ঠিকানাও মনে করতে পারেনি।

মেয়েকে হারানোর পাঁচ মাস পর সন্তানশোকে মারা যান মা শামসুন্নাহার।

আর তারও কয়েক মাস পর, গত আগস্টে পুলিশের মাধ্যমে পুবাইলে একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে মেয়ের খোঁজ পান বাবা আজাদ।

এক বছর পর সন্তান ঘরে ফিরেছে। কিন্তু যে মা সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করেছিলেন, তিনি আর মেয়েকে ফিরে আসতে দেখেননি।

এই একটি ঘটনা অন্য পরিবারগুলোর জন্য একদিকে আশার, অন্যদিকে নির্মম বাস্তবতার—অনেক নিখোঁজ শিশুই হয়তো কোথাও জীবিত আছে, কিন্তু পরিচয় ও পরিবারের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে।

সাত মাসে নিখোঁজের অভিযোগ ১৫,৭১৭ শিশুর

সন্তান হারানো এসব পরিবারের ব্যক্তিগত গল্পের পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি পরিসংখ্যান।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের অভিযোগে দেশে ১৭ হাজার ৮০৮টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল।

২০২৪ সালে সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪।

২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র সাত মাসেই ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের অভিযোগে জিডি হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারে ফিরে এসেছে। কিন্তু ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ।

অর্থাৎ অধিকাংশ শিশুকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেলেও হাজারো পরিবার এখনো তাদের সন্তানের কোনো নিশ্চিত খবর জানে না।

এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটির পেছনেই আছে স্বপ্না, নজরুল, তহুরা কিংবা চম্পাদের মতো একটি পরিবার।

ছোট শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ এক নয়

শিশু নিখোঁজের সব ঘটনা অপহরণের কারণে ঘটে না।

শিশুর বয়সভেদে নিখোঁজ হওয়ার কারণেও বড় পার্থক্য রয়েছে।

ছোট শিশুরা অপরিচিত জায়গায় হারিয়ে যেতে পারে, নিজের ঠিকানা বলতে না পারায় পরিবারে ফিরতে পারে না কিংবা একা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে পথ হারাতে পারে।

কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক বিরোধ, অভিমান, পড়াশোনার চাপ, বন্ধুদের প্রভাব, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা কিংবা নানা ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আবার কোনো কোনো ঘটনায় অপহরণ, পাচার বা অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও থাকে।

ফলে নিখোঁজ শিশুর প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধানের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

শিশু নিখোঁজের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

কারণ কোনো শিশু নিজের এলাকা থেকে দ্রুত অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে সময় যত যায়, অনুসন্ধান তত কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশেও নিখোঁজ শিশু সম্পর্কে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের।

২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ হওয়ার পর হত্যার ঘটনায় এই দাবি আরও জোরালো হয়।

এরপর এক লাখ মানুষের স্বাক্ষরসহ বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’-এর মতো জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছিল।

চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’

এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহযোগিতায় এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়।

সঙ্গে চালু করা হয় টোল হেল্পলাইন ১৩২১৯।

ব্যবস্থাটির লক্ষ্য হলো কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তার তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একযোগে অনুসন্ধানে যুক্ত হতে পারে।

তবে বহু বছর ধরে নিখোঁজ থাকা শিশুদের পরিবারগুলোর প্রশ্ন—শুধু নতুন ব্যবস্থাই নয়, পুরোনো অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর কী হবে?

পুরোনো মামলার পুনঃতদন্তের দাবি

‘আমার সন্তান কোথায়?’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবারগুলো কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে।

তারা নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চায়।

বছরের পর বছর অমীমাংসিত থাকা নিখোঁজ ও অপহরণের ঘটনাগুলো আবার তদন্ত এবং আগের তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে পরিবারগুলো।

শিশু পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে সন্তান খুঁজতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসিক সহায়তার দাবিও উঠেছে।

তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছে।

পরিবারগুলো শুধু একটি খবর চায়

নিখোঁজ শিশুর পরিবারের যন্ত্রণা শুধু সন্তানকে কাছে না পাওয়ার নয়। সবচেয়ে বড় কষ্ট অনেক সময় অনিশ্চয়তা।

মৃত্যুর খবর থাকলে মানুষ শোক করতে পারে। কিন্তু সন্তান বেঁচে আছে না মারা গেছে, কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানা না থাকলে অপেক্ষারও শেষ থাকে না।

স্বপ্না আক্তার তাই এক বছর পরও মনে করেন, হয়তো কোনো একদিন দরজায় এসে দাঁড়াবে রূপা।

নজরুল ইসলাম নিজের সব সম্পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, যদি তামিমকে কেউ ফিরিয়ে দেয়।

চম্পা বেগম যমজ মেয়ে লামিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে খোঁজেন সামিয়াকে।

আর মেয়েকে ফিরে পাওয়া আজাদ রহমান জানেন, খোঁজ চালিয়ে গেলে কোনো কোনো পরিবার সত্যিই সন্তান ফিরে পেতে পারে। তবে তাঁর স্ত্রী সেই দিনটি দেখে যেতে পারেননি।

ঢাকার মিলনায়তনে রোববার তাই শুধু ৪০টি পরিবার উপস্থিত ছিল না। সেখানে যেন হাজির ছিল বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা কয়েক হাজার পরিবারের একই প্রশ্ন—

‘আমার বাচ্চা কোথায়?’

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles