ঢাকার নদী দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বুড়িগঙ্গা-তুরাগসহ পাঁচ নদীর দূষণ ও নাব্যতা নিয়ে পর্যালোচনা; ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দূষণমুক্ত করা এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পৃথক দুটি সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বুড়িগঙ্গা-তুরাগসহ পাঁচ নদী নিয়ে পর্যালোচনা

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিত এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন নিয়ে প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির সভার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং এসব নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নের কার্যক্রমও সভায় পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলেন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা না করে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ

সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আরেকটি সভায় দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার তথ্য জানান।

সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করার নির্দেশ

দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় পর্যায়ে এসব স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

উপজেলা হাসপাতালে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হয়। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্তের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে থাকতে হবে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

দুই সভায় যারা ছিলেন

নদী ও পরিবেশবিষয়ক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় ছিলেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles