আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মাত্র চার দিনের মাথায় লিওনেল মেসিকে আবারও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার জন্য নয়, দেশের সমর্থকদের সামনে কিংবদন্তি অধিনায়ককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতেই একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের চিন্তা করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
গত ৩১ আগস্ট দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাই আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিন্তু আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের খবর, নীল-সাদা জার্সিতে মেসির গল্পে আরও একটি অধ্যায় যোগ হতে পারে। আগামী ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাকে নিয়ে একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দেশের মাটিতে বিদায় দেওয়ার ভাবনা
আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দেওয়া মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি দেশের সমর্থকদের সামনে হয়নি।
সেই কারণেই আর্জেন্টিনার মাটিতে একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করে তাকে বিদায় জানানোর চিন্তা সামনে এসেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মেসি আরও একবার অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারেন।
তবে এখন পর্যন্ত এএফএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচটির দিনক্ষণ কিংবা প্রতিপক্ষ ঘোষণা করা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মেসির সম্মতি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এমন একটি ম্যাচে খেলতে রাজি কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে সম্ভাবনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও মেসির আবার আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এখনো নিশ্চিত কোনো ঘটনা নয়।
৩১ আগস্ট বিদায়ের ঘোষণা
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তা দিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া ছিল না। মেসি জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই নিজের বিদায়ী বার্তাটি লিখেছিলেন তিনি। এরপর ৪১ দিন সেটি নিজের কাছেই রেখে শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
মেসির বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের এক অসাধারণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
২০০৫ থেকে ২০২৬—এক ঐতিহাসিক যাত্রা
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয় মেসির। এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা জিততে না পারায় তাকে দীর্ঘ সময় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং একাধিক কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের হতাশাও সঙ্গী হয়েছিল তার।
পরিস্থিতি বদলে যায় ২০২১ সালে। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা পান মেসি।
এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে তার দল।
২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান মেসি। তবে এবার শেষ ধাপে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দেশজুড়ে মেসিকে বিশেষ সম্মান
মেসির অবসরের পর তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে এএফএ।
আর্জেন্টিনার ফুটবলের সব পুরুষ ও নারী বিভাগের ম্যাচে প্রথমার্ধের দশম মিনিটে খেলা এক মিনিটের জন্য থামিয়ে মেসিকে করতালি দিয়ে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানিয়েই দশম মিনিটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেসব স্টেডিয়ামে বড় পর্দা রয়েছে, সেখানে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে এএফএর তৈরি বিশেষ ভিডিও দেখানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাহলে কি অবসর ভেঙে ফিরছেন মেসি?
মেসিকে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়লেও এটিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বর্তমান আলোচনা মূলত একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচকে কেন্দ্র করে। মেসি এতে অংশ নিলেও সেটি তার অবসরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কিংবা আবার নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার ইঙ্গিত হবে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে নিজেদের মাঠে নীল-সাদা জার্সিতে আরও একবার দেখার সুযোগ পাবেন। আর মেসির জন্যও সেটি হতে পারে দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আবেগঘন শেষ দৃশ্য।



