বলিউডের সিনেমায় এমন গল্প নতুন নয়—ধনী পরিবারের ছেলে বা মেয়ে ভালোবাসার মানুষকে পেতে নিজের পরিচয় গোপন করে সাধারণ মানুষের বেশ ধরেছেন। কখনো হয়েছেন গাড়িচালক, কখনো পরিচারক। গোবিন্দর ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’ সিনেমাতেও এমন গল্প দেখা গেছে। কারিশমা কাপুরের মন জয় করতে ধনী বাবার ছেলে হয়েও তার পরিবারের বাড়িতে কাজ নিয়েছিলেন গোবিন্দ।
কিন্তু গোবিন্দর নিজের জীবনেই ঘটেছিল অনেকটা সিনেমার মতো এক ঘটনা। পার্থক্য শুধু এটুকু—এবার পরিচয় গোপন করেছিলেন গোবিন্দ নন, তার এক নারী ভক্ত।
গোবিন্দর প্রেমে এতটাই মগ্ন হয়েছিলেন এক ধনী ব্যবসায়ীর মেয়ে যে, নিজের পরিচয় লুকিয়ে নায়কের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ নিয়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—যেভাবেই হোক প্রিয় তারকার কাছাকাছি যাওয়া, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং সুযোগ বুঝে নিজের ভালোবাসার কথা জানানো।
ঘটনাটি পরে প্রকাশ্যে এনেছিলেন গোবিন্দ ও তার স্ত্রী সুনীতা আহুজা। তবে ওই নারীর পরিচয় তারা কখনো প্রকাশ করেননি।
তখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে গোবিন্দ
সময়টা ছিল গোবিন্দর ক্যারিয়ারের উত্থানের পর্ব। অভিনয়, নাচ, হাস্যরস আর স্বতন্ত্র পর্দা-উপস্থিতির কারণে বলিউডে তখন তার বিপুল জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে নারী ভক্তদের মধ্যে তাকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল প্রবল।
সেই অসংখ্য অনুরাগীর একজন ছিলেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী পরিবারের ওই তরুণী। গোবিন্দকে তিনি শুধু পর্দার নায়ক হিসেবে পছন্দ করতেন না; তাকে বিয়ে করার স্বপ্নও দেখতেন।
কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার জানা ছিল না—গোবিন্দ তখন বিবাহিত।
১৯৮৭ সালে সুনীতাকে বিয়ে করেছিলেন গোবিন্দ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজের বিবাহিত পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। সে সময় নায়কের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে এলে নারী ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়তে পারে—এমন ধারণা বলিউডে প্রচলিত ছিল। গোবিন্দর ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রাখায় সুনীতাও সম্মতি দিয়েছিলেন।
ফলে গোবিন্দর সেই অনুরাগীও জানতেন না, যার সঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখছেন, তিনি ইতিমধ্যেই বিবাহিত।
ঠিকানা খুঁজে হাজির গোবিন্দর বাড়িতে
একপর্যায়ে ওই তরুণী গোবিন্দর বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করেন। কিন্তু একজন ধনী ব্যবসায়ীর মেয়ে হিসেবে নয়, নিজেকে অসহায় তরুণী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেখানে হাজির হন।
গোবিন্দ ও তার মায়ের কাছে নিজের আর্থিক অসচ্ছলতার গল্প বলেন তিনি। জানান, তার একটি কাজ খুব প্রয়োজন।
তার কথা বিশ্বাস করে গোবিন্দর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ দেওয়া হয়। দায়িত্বের মধ্যে ছিল বাসন মাজাসহ ঘরের বিভিন্ন কাজ।
প্রিয় নায়কের কাছে থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য ধনী পরিবারের মেয়েটিও মুখ বুজে সেসব কাজ করতে থাকেন।
কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায়—ঘরের কাজের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না তার।
বাসন মাজতে পারতেন না ঠিকমতো
গোবিন্দর মায়ের নজর এড়ায়নি নতুন পরিচারিকার অদক্ষতা। বিশেষ করে বাসন পরিষ্কার করার কাজ তিনি ঠিকমতো করতে পারতেন না।
একজন পেশাদার গৃহকর্মী হিসেবে তার আচরণেও অসংগতি ছিল। ফলে ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্যদের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে।
তবু মেয়েটি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, প্রথমে গোবিন্দর সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব তৈরি করবেন। এরপর উপযুক্ত সময়ে জানাবেন—তিনি আসলে কোনো অসহায় পরিচারিকা নন, একজন কোটিপতি ব্যবসায়ীর মেয়ে। তারপর গোবিন্দকে দেবেন প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত একটি ফোনালাপেই ফাঁস হয়ে যায় তার আসল পরিচয়।
বাবার সঙ্গে কথোপকথন শুনে ফেলেন সুনীতা
একদিন ওই তরুণী তার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঘটনাচক্রে সেই কথোপকথনের কিছু অংশ শুনে ফেলেন গোবিন্দর স্ত্রী সুনীতা।
কথাবার্তা শুনে তার সন্দেহ হয়—বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করা মেয়েটির পরিচয় সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, সেটি সত্য নয়।
সুনীতা বিষয়টি গোবিন্দকে জানান।
এরপর গোবিন্দ নিজেই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা। জানা যায়, তিনি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নন; তার বাবা একজন বড় ব্যবসায়ী। শুধু গোবিন্দর কাছাকাছি যাওয়ার জন্যই নিজের পরিচয় গোপন করে বাড়িতে কাজ নিয়েছিলেন।
জানতে পারলেন, গোবিন্দ বিবাহিত
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি অবশ্য এরপরই আসে।
যে মানুষটিকে ভালোবেসে ধনী পরিবারের আরাম-আয়েশ ছেড়ে পরিচারিকার বেশে বাসন পর্যন্ত মেজেছেন, সেই গোবিন্দ যে বিবাহিত—তা তখন জানতে পারেন তরুণী।
গোবিন্দ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো বিষয়টি জানান। পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ওই তরুণীকে।
গোবিন্দ বিবাহিত—এই সত্য জানতে পেরে গভীরভাবে আহত হয়েছিলেন তিনি।
প্রিয় তারকাকে কাছে পাওয়ার জন্য তার পরিকল্পনা সফল হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি থেকে যায় গোবিন্দর জীবনের এমন এক অধ্যায় হিসেবে, যা তার অভিনীত সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
পর্দায় ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’-এ ভালোবাসার মানুষকে পেতে ধনী পরিবারের সন্তান গোবিন্দকে পরিচয় আড়াল করে বাড়ির কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। বাস্তব জীবনে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা—এবার গোবিন্দকে পাওয়ার আশায় কোটিপতির মেয়েই নিজের পরিচয় লুকিয়ে তার বাড়িতে বাসন মেজেছিলেন।



