সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের বক্তব্য; মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাতীয় ঐক্যের কথা স্মরণ

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশের মানুষকে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে বিভক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কিছু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের সব নাগরিকের সমান পরিচয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য মানুষ যুদ্ধ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—এমন কোনো বিভাজন ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা। সেই সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠেছিল।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থী, তরুণ, নারী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় কেউ আহত বা গুলিবিদ্ধ হলে তাঁকে উদ্ধারের আগে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি।

তাঁর ভাষায়, ‘কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান।’

আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় আনা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে ঐক্য দেখা গেছে, সেটিই বাংলাদেশের সামষ্টিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

জে এম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখান থেকে সরাসরি রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পূজামণ্ডপে পৌঁছালে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতারা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles