রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাহিদ জন (৩১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তিনি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কোতোয়ালি থানার সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পরিত্যক্ত কার্যালয় থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এসআরবি-২-এর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানাধীন শম্পা মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাহিদ জনকে গ্রেপ্তার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আদাবর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কার্যালয়ে অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে এসআরবি-২।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী বলে দাবি
এসআরবি-২ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জাহিদ জনের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাহিনীর দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কোতোয়ালি থানার সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলার তথ্য
গ্রেপ্তারের পর জাহিদ জনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেছে এসআরবি-২।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিসিপিআর যাচাই করে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে মামলাটি কবে দায়ের করা হয়েছে, নিহত ব্যক্তি কে কিংবা ওই মামলায় জাহিদ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।
মামলাটির তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে কিংবা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এসআরবি-২-এর দাবি অনুযায়ী, জাহিদ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধার অস্ত্র নিয়ে আইনি ব্যবস্থা
অভিযানে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।
তবে অস্ত্রটির ধরন, উৎপাদনকারী দেশ, নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য কিংবা সেটি আগে কোনো অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একইভাবে অস্ত্রটি কত দিন ধরে পরিত্যক্ত কার্যালয়ে রাখা ছিল কিংবা ওই কার্যালয়টি সর্বশেষ কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং জব্দ করা আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হবে কি না কিংবা গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কোন আদালতে হাজির করা হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে জাহিদ জনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।



