ঠাকুরগাঁওয়ে দুই আসামির মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও

রুহিয়া থানার সামনে ৫০-৬০ জনের বিক্ষোভ ও পুলিশকে গালাগালের অভিযোগ; নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি অস্বীকার বিএনপি নেতার, আদালতে দুই আসামির জামিন

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন থানার সামনে জড়ো হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের গালাগাল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রুহিয়া থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে থানা ঘেরাওয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কুজিশহর গ্রামের নাজমিন আক্তার (২১) থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে মারধরের অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করা হয়।

ওই মামলার ভিত্তিতে রোববার ভোরে বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামান (৪০) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের রুহিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে ভিড়

পুলিশ জানায়, দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন থানার সামনে অবস্থান নেন। পুলিশের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনও ছিলেন।

ওসি মিলাদুন নবী বলেন, বিক্ষোভকারীরা গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতা রিপনও উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তবে পুলিশ তাঁকে জানায়, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় দুই ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। থানা থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

পরিস্থিতি শান্ত করেন বিএনপির আরেক নেতা

থানার সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার।

পুলিশ জানায়, তিনি উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শান্ত করেন। পরে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে যান আবদুল জব্বার।

এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

থানা ঘেরাওয়ের অভিযোগ অস্বীকার রিপনের

এদিকে থানা ঘেরাওয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি বিএনপির কর্মী। শনিবার রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর রোববার ভোরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

রিপনের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিরপরাধ। তাঁদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি থানায় যান।

দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে থানার সামনে জড়ো হওয়া লোকজনের মধ্যে রিপন সক্রিয় ছিলেন এবং তিনি তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

আদালত থেকে জামিন পেলেন দুই আসামি

থানার সামনে বিক্ষোভের পরও গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন ও মো. বদিউজ্জামানকে রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁওয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুর রহমানের আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত আগামী ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন পর্যন্ত তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক বেলাল হোসেন দুই আসামির জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles