আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে সবচেয়ে বড় চমক রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনার। লিটন দাসকে অধিনায়ক ও তাওহীদ হৃদয়কে সহ-অধিনায়ক করে দল সাজিয়েছেন নির্বাচকেরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দল ঘোষণা করে বিসিবি। আগামী ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।
ঘোষিত দলে ফিরেছেন অধিনায়ক লিটন দাস ও পেসার হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও পেসার নাহিদ রানা। চোটের কারণে নাহিদ রানাকে দলে রাখা হয়নি।
প্রথমবার ওয়ানডে দলে আলিস আল ইসলাম
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে রহস্যময় স্পিনার হিসেবে পরিচিত আলিস আল ইসলাম। অফ স্পিনের পাশাপাশি বলের গতিপথ ও বৈচিত্র্য দিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার দক্ষতার কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় আলিসের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।
ওই ম্যাচে চার ওভার বোলিং করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন আলিস। ব্যাট হাতে করেন চার রান।
২০২০ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই স্পিনার এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে ৩৫ উইকেট শিকার করেছেন। তাঁর বোলিং গড় ১৭ দশমিক ০৫ এবং ইকোনমি রেট ৪ দশমিক ০৫। এক ম্যাচে ২১ রানে ৬ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং।
সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন আলিস। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৪ উইকেট নেন তিনি। ৮২ দশমিক ২ ওভার বোলিং করে ৩১৬ রান খরচ করেন এই স্পিনার।
গত মাসে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বল হাতে কার্যকর ছিলেন আলিস। সেখানে এক ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে ৩৫ রানে তিনটি উইকেট নেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেট ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এবার ওয়ানডে দলে সুযোগ পেলেন আলিস।
লিটনের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়
ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন লিটন দাস।
গত জুলাইয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে তাঁকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিটন।
২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাতটি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং তিনটিতে হেরেছে। বাকি একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
এবার লিটনের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়।
ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা, বোলিংয়ে বৈচিত্র্য
ঘোষিত দলে ব্যাটিং বিভাগে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের।
স্পিন আক্রমণে আলিস আল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলাম। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও স্পিন বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
পেস বিভাগে রাখা হয়েছে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামকে।
বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে স্পিনারদের কার্যকারিতা বিবেচনায় আলিসের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে নতুন বিকল্প তৈরি করেছে।
১৭ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে অংশ নেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও শারজাহতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো।
আগামী ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
এরপর ১৯ অক্টোবর একই মাঠে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
২১ অক্টোবর শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ২৩ অক্টোবর শারজাহতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
সব ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল
লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের সূচি
১৭ অক্টোবর: বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে — আবুধাবি।
১৯ অক্টোবর: আফগানিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে — আবুধাবি।
২১ অক্টোবর: আফগানিস্তান বনাম বাংলাদেশ — শারজাহ।
২৩ অক্টোবর: ফাইনাল — শারজাহ।



