পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ বাংলাদেশ, ইরানসহ আরও মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
করাচিতে গাজার সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির।
হাফিজ নাঈম বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট যদি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে এর প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গাজাসহ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা।
বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তিতে তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
পরে এর নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’। জোটটির সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
হাফিজ নাঈম এই জোটের পরিধি বাড়িয়ে বাংলাদেশ, ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও মতপার্থক্য দূরে রেখে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ
বক্তব্যে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি কাশ্মীর প্রসঙ্গও তোলেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের মানুষের অধিকারের জন্য মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল-আকসা মসজিদের মুক্তির জন্যও সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিয়া-সুন্নি বিভেদ এবং ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন হাফিজ নাঈম।
গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মানছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির।
ফিলিস্তিনে এক হাজার কোটি রুপির বেশি সহায়তার দাবি
হাফিজ নাঈম বলেন, পাকিস্তানের জনগণের সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামী ও দলটির সেবামূলক সংস্থা আল-খিদমাত ফিলিস্তিনিদের জন্য এক হাজার কোটি পাকিস্তানি রুপির বেশি ত্রাণসহায়তা পাঠিয়েছে।
গাজার মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি পালনের কথাও জানান তিনি।
একই সঙ্গে পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ করের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির। আগামী ৭ অক্টোবরের পর দলের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কৌশল জানানো হবে বলেও জানান তিনি।



