চাকরি ছেড়ে মাছ চাষ, বছরে রফিকুলের আয় ২৫–৩০ লাখ টাকা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ৮০ বিঘার খামার; প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা চলছে প্রায় ৫০ পরিবারের

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারানকান্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে একসময় ধান ছাড়া তেমন কোনো ফসল হতো না। বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে অনেক জমি পড়ে থাকত অনাবাদি। সেই জমির ৮০ বিঘা লিজ নিয়ে মাছের খামার গড়ে তুলেছেন মো. রফিকুল ইসলাম। তিন বছরের ব্যবধানে মাছ চাষ থেকে বছরে খরচ বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

শুধু নিজের আয়ের পথই তৈরি করেননি রফিকুল। তার খামারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের। খামারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের জীবিকা চলছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিশাল জলাশয়ে জাল টানছেন শ্রমিকরা। জালে উঠছে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প। ছোট মাছ আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিক্রির উপযোগী বড় মাছ রাখা হচ্ছে ড্রামে। পরে সেগুলো পাঠানো হচ্ছে বাজারে।

৮০ বিঘা জমিতে মাছের খামার

তিন বছর আগে ৮০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন রফিকুল। শুরুতে লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে খামার পরিচালনা করেন তিনি।

বর্তমানে তার খামারে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ হচ্ছে।

খামারে স্থায়ীভাবে কাজ করছেন ১২ জন। মৌসুম ও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ীভাবে আরও অন্তত ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। মাছের খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও প্রায় ৩০টি পরিবার।

১৪ বছরের চাকরি ছেড়ে গ্রামে

রফিকুল ইসলাম জানান, মাছ চাষে আসার আগে তিনি ১৪ বছর আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি করেছেন। পরে চাকরি ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।

রফিকুল বলেন, ‘আমি ১৪ বছর আমেরিকান এম্বাসিতে চাকরি করেছি। পরে ভাবলাম, নিজের এলাকায় গিয়ে কীভাবে কিছু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের এলাকায় কিছু করার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এখন বছরে খরচ বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছি। আমার দেখাদেখি এখন অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।’

মডেল মৎস্য খামারি রফিকুল

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে উপজেলার একজন মডেল মৎস্য খামারি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এককভাবে ৮০ বিঘা জমিতে এত বড় মৎস্য প্রকল্প এই জেলায় বিরল। আমরা তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

রফিকুলের খামারে বর্তমানে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। খামারের মাছ বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও খাদ্য সরবরাহের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় অনেকে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles