কলেরার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৮২.৬ শতাংশ, বাদ সাড়ে ৮ লাখ মানুষ

নারায়ণগঞ্জেই বাদ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি; দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরিচালিত দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা কর্মসূচির প্রথম ডোজ পেয়েছেন লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। নির্ধারিত প্রায় ৪৯ লাখ মানুষের মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখের কিছু বেশি। বাদ পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ডোজের জন্য লক্ষ্য জনগোষ্ঠী ছিল ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন। টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে কম টিকাদান হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। সেখানে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনের বিপরীতে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। বাদ পড়েছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ জন।

সারা দেশে প্রথম ধাপে টিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ ৯৮.৪ শতাংশ

এ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ প্রথম ডোজ পেয়েছেন।

এরপর কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ হার ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

দ্বিতীয় ডোজ চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

গত ২২ আগস্ট দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা কর্মসূচি শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর। এ কার্যক্রম চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে কর্মসূচির লক্ষ্য জনগোষ্ঠীতে রাখা হয়েছে।

উচ্চঝুঁকির ১৪ এলাকা

প্রথম পর্যায়ে কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার সাতটি থানা হলো—লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও।

ঢাকার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

কর্মজীবীদের টিকাদান ছিল চ্যালেঞ্জ

কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। তবে প্রথম ডোজে তা অর্জিত হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ টিকাদান কর্মসূচিতে মূলত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার এক বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর আকার ছিল অনেক বড়।

এ ছাড়া লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মজীবী। কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচি না মেলায় অনেকে কেন্দ্রে যেতে পারেননি।

ঢাকার কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে বেশি মানুষকে আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে এ ব্যবস্থা করা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জে জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরও টিকাদানের হার কম হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওই কর্মকর্তা।

‘যতটা সম্ভব প্রচারণা চালিয়েছি’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা। আমরা যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি, সেটিই জানিয়েছি।’

তার মতে, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করায় শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মসূচির তুলনায় টিকা গ্রহণের হার কিছুটা কম হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব প্রচারণা চালিয়েছি।’

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ায় সেখানে টিকাদানের হার কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে অবগত নন।

পাঁচ বছরে উচ্চঝুঁকির এলাকা টিকাদানের পরিকল্পনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথ গবেষণায় দেশের ১৪৪টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন থানাকে কলেরার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এরপর এসব এলাকার মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করেছে। টিকা সরবরাহ করেছে গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে বাকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন অর্থায়নের ওপর নির্ভর করবে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles