‘লাশের বদলে লাশ নেব, থানার ইট খুলে নেব’— এনসিপি নেতার হুঁশিয়ারি

ফতুল্লায় এনসিপি নেতার ওপর হামলার পর থানায় উত্তেজনা; বিএনপি নেতা হালিম আজাদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর হামলার ঘটনার পর থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে ‘লাশের বদলে লাশ নেওয়া’ এবং ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের সামনে তিনি এ বক্তব্য দেন। তাঁর ১৭ সেকেন্ডের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে যুবাইর সরদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইট পর্যন্ত খুলে নেব।’

এনসিপি নেতার ওপর হামলার পর উত্তেজনা

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় তাওহীদের ওপর হামলা চালানো হয়। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

হামলায় আহত তাওহীদকে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হালিম আজাদ। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি বক্তাবলী থেকে দূরে ছিলেন এবং তাওহীদের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। তাঁকে অহেতুক ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হালিম আজাদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হামলার ঘটনায় এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় হালিম আজাদসহ বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা হামলার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন।

‘এমন বক্তব্য ভালো চর্চা নয়’

থানার ভেতরে যুবাইর সরদারের বক্তব্যের বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নিজের কক্ষের ভেতরে ছিলেন এবং বাইরে কী বলা হয়েছে, তা শোনেননি।

তবে থানার ভেতরে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া ‘ভালো চর্চা নয়’। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন যুবাইর

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যুবাইর সরদার বলেন, তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং তাঁদের শান্ত করা যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের শান্ত করতে বলা হয়েছিল। সে কারণে নেতাকর্মীদের শান্ত করার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর নেতাকর্মীরা শান্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles