সীতাকুণ্ডে কুপিয়ে আহত আওয়ামী লীগ কর্মীর ৯ দিন পর মৃত্যু

স্ত্রী বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা; আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কুপিয়ে গুরুতর আহত আবুল মুনছুর (৪৬) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকায় মুনছুরের ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

নিহত আবুল মুনছুর গোলাবাড়িয়া এলাকার খলিল ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সালামত উল্লাহ ওরফে জুনুর ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। আসরের নামাজের পর হযরত ওমর ফারুক (রহ.) মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বাড়ির সামনে কুপিয়ে আহত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় মোজাফফর আহমেদ ভূঁইয়ার নতুন বাড়ির সামনে মুনছুরের ওপর হামলা হয়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। নয় দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা

হামলার ঘটনায় মুনছুরের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলায় মেহেদি হাসান ওরফে রানা, জাহাঙ্গীর, আমির হোসেন, আলমগীর, সাইমন, মহিন উদ্দিন, আশিক ও নিশানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজ কুমার বংশীর ভাষ্য অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত আসামিদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় মুনছুর আহত হয়েছিলেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মুনছুরের স্ত্রী মামলা করেছেন। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ছয় মাসে চারজন নিহত

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া ও দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় গত ছয় মাসে পৃথক ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

সর্বশেষ আবুল মুনছুরের মৃত্যুর পর গোলাবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles