বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশে শালীনতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাকস্বাধীনতা যেন ‘বাকশালীনতার’ সীমা লঙ্ঘন না করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি এবং মানহানিকর মন্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর আগেও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে ব্যক্তির পারিবারিক পরিচয়, পিতা-মাতা বা ব্যক্তিগত মর্যাদা নিয়ে আক্রমণকে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা আর বাকশালীনতা কিন্তু এক জিনিস নয়।’
সমালোচনার অধিকার থাকবে
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার কারণে কাউকে আইনি হয়রানি করার নীতি সরকারের নেই। তবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ব্যক্তির মর্যাদা ও শালীনতার সীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনও বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে; যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সীমা অতিক্রম করেছে বলে সরকারের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাকস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
তানভীর তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্মস্থান ও পিতৃপরিচয় নিয়ে মন্তব্য করার পর সমালোচনার মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। দলীয়ভাবেও তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিবের বক্তব্য ছিল, সরকারের সমালোচনা করা যায়, কিন্তু কারও পিতৃপরিচয় বা মাতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বাকস্বাধীনতার পর্যায়ে পড়ে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের অবস্থান
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সহনশীলতা বজায় রাখার দাবি করে আসছে।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন ঘটেনি এবং সরকার উসকানি ও অশোভন আচরণের ক্ষেত্রেও ধৈর্য দেখিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব দাবি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।



