একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্মাতা আবুল হায়াত ৮২ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিনে জীবনের অর্জন ও দর্শকের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয় করে যেতে চান।
আবুল হায়াত বলেন, “জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু আমজনতার যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি, তার সাথে আসলে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের এই ভালোবাসা বুকে নিয়ে অভিনয় করে যেতে চাই।”
স্ত্রীর সারপ্রাইজে জন্মদিন শুরু
জন্মদিন নিয়ে আলাদা বড় কোনো পরিকল্পনা করেন না আবুল হায়াত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবেই দিনটি উদ্যাপন করেন।
এবার জন্মদিনের শুরুতেই তাঁকে চমকে দেন স্ত্রী। রাত ১২টায় বাসায় কেক, ফুল ও মোমবাতি দিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।
আবুল হায়াত বলেন, “রাত ১২টায় স্ত্রী আমাকে সারপ্রাইজ দিয়েছে। বাসায় কেক, ফুল ও মোমবাতি দিয়ে সুন্দর আয়োজন করেছিল, যার কিছুই আমি জানতাম না।”
সকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েও শুভেচ্ছা ও উপহার পেয়েছেন তিনি।
একই দিনে নাতনিরও জন্মদিন
আবুল হায়াতের দুই মেয়ে অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে এবারের জন্মদিনটি নাতাশার মেয়ে তৃষার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
কারণ একই দিনে আবুল হায়াত ও তাঁর নাতনির জন্মদিন।
তিনি জানান, রাত ১২টা বাজলেই নাতনিকে ফোন করেন তিনি। একইভাবে পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে ফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
আত্মজীবনী লিখেছেন প্রায় ১০ বছর ধরে
অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখিও করছেন আবুল হায়াত। কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আত্মজীবনী ‘রবি পথ’।
তিন শতাধিক পৃষ্ঠার বইটি লিখতে তাঁর প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছে। আত্মজীবনীটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন তাঁর বড় মেয়ে বিপাশা হায়াত।
৮২ বছরেও অভিনয়ে সক্রিয়
৮২ বছর বয়সেও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল হায়াত। সম্প্রতি মহিন খানের পরিচালনায় ‘সাতে তিন হাত মাটি’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
জন্মদিনে দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিনগুলোতেও অভিনয় করে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা।



