রৌমারীতে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা, ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ

রাত দুইটা থেকে অপেক্ষার পর ক্ষোভ; গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি ১০০–১৫০ বস্তা ইউরিয়া নেওয়া হয়েছে, ঘটনা অস্বীকার কৃষি কর্মকর্তার

কুড়িগ্রামে সার পেতে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। সোমবার সকালে রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা।

রৌমারীর গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, গুদামে থাকা ৭৫০ বস্তা সারের মধ্যে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেছেন কৃষকরা। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন।

রাত দুইটা থেকে অপেক্ষা

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার পাওয়ার আশায় রোববার রাত দুইটা থেকেই তাঁরা বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামের সামনে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন।

সকাল পর্যন্ত সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে গুদাম থেকে সার বের করে মাথায় ও ভ্যানে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুদামে ছিল ৭৫০ বস্তা সার

মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের দাবি, গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল। সকালে সেখানে প্রায় এক হাজার কৃষক জড়ো হন।

কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান।

সাইফুল ইসলামের দাবি, এ সময় কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। হিসাব শেষ হলে নেওয়া সারের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অবশিষ্ট সার বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনা অস্বীকার কৃষি কর্মকর্তার

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া অবশ্য গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন।

তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া এবং বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক রয়েছেন এবং সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সার বিতরণের সময় পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে কৃষকদের ক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ

একই সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা।

তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিনই সার নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ হচ্ছে। কোথাও সড়ক অবরোধও করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নিয়মিত মাঠে নামতে হচ্ছে।

পর্যাপ্ত মজুতের দাবি কৃষি বিভাগের

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য অনেক কৃষক বাড়তি সার সংগ্রহ করছেন। এতে কিছু এলাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে।

রোববার নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারেও সার বিতরণে দেরির অভিযোগে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেন কৃষকরা। একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ হয়।

এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles